
শেষ আপডেট: 13 December 2023 23:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর চব্বিশ পরগনা: ১২০ ফুটের উঁচু চিমনি। আগুন দিতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চিমনি। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃ্ত্য়ু হয়েছে। জখম আরও ৩০ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধেয় ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট থানার ইটিন্ডাঘাটার ধলতিতা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ইছামতির পাড়ে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা এই ইটভাটায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইটের স্তুপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ৩ শ্রমিকের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ। জেসিবি এনে শুরু হয়েছে উদ্ধারকার্য।
সূত্রের খবর, ইটভাটায় বিশেষ এই ফায়ারিং করার জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিকদের এনেছিলেন ইট ভাটার মালিক সঞ্জয় ঘোষ। বিকট শব্দ ও আর্তনাদ শুনে আসে পাশের গ্রামের মানুষ ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মধ্যে ৫ জনের অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদের প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বসিরহাট থানার পুলিশ। জেসিবি দিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন চিমনির তলায় আটকে পড়ে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বসিরহাট হাসপাতালের মর্গে যে ৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করে এনেছে পুলিশ তার মধ্যে রয়েছেন হাফিজুল মণ্ডল(৩৫) এবং রাকেশ কুমার(৪০)। হাফিজুর স্থানীয় বাসিন্দা। রাকেশের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তৃতীয় জনের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে গ্রীন ট্রাই্যুনালের নির্দেশ অমান্য করে বছরের পর বছর ধরে বসিরহাটের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই বেআইনি ইটভাটাটি রমরমিয়ে চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
তাঁদের অভিযোগ, বাম আমল থেকেই অবৈধভাবে বনগাঁ ও বসিরহাটে ইছামতি নদীর পাড় দখল করে একের পর এক বেআইনি ইটভাটা গজিয়ে উঠেছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন পর্যন্ত হচ্ছে শুধু নয় পাড় ভাঙন, অকাল বন্যা, এমনকী সবুজ গাছপালা ধ্বংসের ফলে পরিবেশের দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৃহত্তর সুন্দরবন।