
বিক্ষোভর চাকরিহারারা।
শেষ আপডেট: 7 April 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাকার বিনিময়ে পাস বিক্রির অভিযোগে সকাল থেকেই উত্তেজনা বাড়ছিল নেতাজি ইনডোরে (Netaji Indoor Stadium-SSC 2016)। পুলিশের সঙ্গে বচসা থেকে হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন একাংশ চাকরিপ্রার্থী। বেলা ১১ টা নাগাদ ফির সংঘর্ষে জড়িয়ে চাকরিপ্রার্থীরা। দুপক্ষের মধ্যে রীতিমতো খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের হুশিয়ারি, বৈঠকে একজনও অযোগ্য প্রার্থী থাকলে তাঁরা বাধ্য হবেন বৈঠক ভেস্তে দিতে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তেজনার পরিবেশ বাড়ছে। এলাকায় বাড়ানো হচ্ছে পুলিশি নিরাপত্তাও। ঘটনাস্থলে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের পাস আছে তাদের পাস চেক করেই ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। যাদের পাস নেই, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor) সভা ডেকেছেন চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ওই বৈঠকের পাস বিলিকে কেন্দ্র করেই সোমবার সকাল থেকে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। চাকরিহারাদের একাংশের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে পাসও বিক্রি করা হয়েছে। যোগ্যদের বঞ্চিত করে ওই পাস দেওয়া হয়েছে অযোগ্যদের।
প্রসঙ্গত, রবিরা শহিদ মিনারের সমাবেশ থেকেও এ ব্যাপারে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন চাকরিহারাদের একাংশ (SSC Case Verdict)। শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দলকে (Political Parties) একজোট হয়ে রাস্তা বের করতে বললেন তাঁরা। নাহলে ২০২৬-এর নির্বাচন কেউ লড়তে পারবেন না বলে 'সতর্ক' করেছেন।
তাঁদের বক্তব্য, সব রাজনৈতিক দলগুলি এখন মরা-কান্না কাঁদছে! প্রত্যেকেই বলছে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের রায় মানতে পারছেন না। যোগ্যদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তাহলে সকলে একসঙ্গে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুক।
চাকরিহারাদের হুঁশিয়ারি, 'আমাদের রাস্তা বের করে না দিলে বিধানসভা নির্বাচন কাউকে লড়তে দেব না। আমাদের লাশের ওপর দিয়ে নির্বাচন লড়তে হবে।' তাঁরা সাফ জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁদের কাছে মৃত্যুদণ্ডের সমান। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে যদি কেউ সমাধান না বের করতে পারে তাহলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তাঁদের লাশের ওপর দিয়ে হবে!
সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁরা মানতে পারছেন না কারণ শীর্ষ আদালত কীসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তাঁদের বোধগম্য হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন চাকরিহারাদের একাংশ। এমনকী তাঁরা এও বলছেন, সিবিআই-এর তদন্ত রিপোর্ট শীর্ষ আদালত গ্রাহ্য করেনি। তাহলে কী লাভ হল সিবিআই তদন্ত করে? চাকরি বাতিলের পর এই প্রশ্ন তুলেই সরব চাকরিহারারা।
শীর্ষ আদালতের রায়কে 'মান্যতা' না দিয়ে তাঁদের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড দিতে গেলে বছরের পর বছর বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু তাঁদের মামলায় সময় নিয়ে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণের সময় হল না দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। অবশ্যই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হবে।