নেপালে অশান্তির আবহে ইন্দো-নেপাল সীমান্তে কড়াকড়ি নিরাপত্তা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন।

সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 10 September 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অগ্নিগর্ভ পরিস্থিত নেপালের। সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার দার্জিলিঙের পানিট্যাঙ্কিতে পৌঁছলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লক্ষ্মী আনন্দ বোস, রাজ্যপালের এডিসি রাহুল পান্ডে, ওএসডি শ্রীকুমার বন্দোপাধ্যায়, পিএসও রাকেশ পান্ডে এবং পরিচারক অভিজিৎ ঠাকুর ও অমিতাভ বসু। সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজ্যপাল বিদেশ মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
নেপালে অশান্তির জেরে ইন্দো-নেপাল সীমান্তে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সোমবার দুপুর থেকে এসএসবি সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। পরিচয়পত্র ছাড়া সীমান্ত পারাপার কার্যত বন্ধ। ওপারেও সতর্ক রয়েছে নেপালি সেনা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার পানিট্যাঙ্কিতে পৌঁছন এডিজি (কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স) অজয় নন্দ, ডিআইজি (এসএসবি) মঞ্জিত সিং এবং দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ। নজর রাখছেন উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব।
এই সময়েই উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি মঙ্গলবার রাত জেগে উত্তরকন্যা থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, 'পড়শি দেশ নেপালের অবস্থা উদ্বেগজনক। তাই রাজ্যের স্বার্থে রাত জেগে উত্তরকন্যায় বসে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিবেশী ভাল থাকলে আমরাও ভাল থাকব। কেউ যেন অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন। নেপাল নিয়ে যা বলার কেন্দ্র বলবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালকে আমরা ভালবাসি।' তিনি আরও জানান, কেন্দ্র যদি কোনও নির্দেশ দেয়, রাজ্য সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
সীমান্তের অশান্তির জেরে আতঙ্কে বহু ভারতীয় নেপাল থেকে দেশে ফিরছেন। পানিট্যাঙ্কি দিয়েই তাঁদের প্রত্যাবর্তন হচ্ছে। ওপারের কাকারভিটা ও বিরাটনগর সীমান্তে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এবং যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় আপাতত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ। সীমান্তে কয়েকশো ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। পানিট্যাঙ্কির দোকানপাটও বন্ধ।
পরিস্থিতির জেরে সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের হাজার হাজার সোনার কারিগর। ঘাটাল থেকে নেপালে যে বাস পরিষেবা চালু ছিল, তা বন্ধ করা হয়েছে। সোনার কাজের জন্য এ জেলার বহু কারিগর নেপালে যান। এখন তাঁদের অনেকেই সেখানে আটকে রয়েছেন ।
এদিকে নেপালে বসবাসরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালি কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। নেপালে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারত। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।
প্রথমে নেপাল সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও এক্স-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে। এর প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নামে। এরপর থেকেই বিক্ষোভ রূপ নেয় হিংসায়। তবে জেন জি গোষ্ঠীর দাবি, তাঁদের আন্দোলন ছিনতাই করেছে বহিরাগতরা। ধ্বংসাত্মক কাজ, অগ্নিকাণ্ড, ভাঙচুর তাঁদের নয়, বরং বাইরের লোকজন আন্দোলনের নামে এসব চালাচ্ছে।
বুধবার পর্যন্ত কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পোড়া বাড়ি ও গাড়ি থেকে ওঠা ধোঁয়ায় এখনও আকাশ ঢেকে রয়েছে। সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কার্ফু জারি করেছে। হিংসার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত দিতে আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানিয়েছে নেপাল সরকার। এত কিছুর মাঝেও ভারত-নেপাল সীমান্তে রাজ্যপালের সরেজমিন পরিদর্শনকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন প্রশাসনিক মহল।
এদিন সিভি আনন্দ বোস পানিট্যাঙ্কি থেকে বলেন, 'রুটিন ভিসিটে এসেছি। এখানকার মানুষজনের সঙ্গে কথা হবে।'