
শেষ আপডেট: 31 March 2023 04:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ও শাহি ইদগাহর জমি বিবাদে বড় নির্দেশ দিল জেলা আদালত (Mathura Court)। সেখানেও বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও জ্ঞানবাপী মজজিদ ক্যাম্পাসের মতো জমি জরিপ (Temple Mosque Premises Survey) করে পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। অতীতে এই ভাবেই দানা বেঁধেছিল অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্ক।
নয়ের দশকের গোড়ায় বাবরি মসজিদ ধংস করার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠন আওয়াজ তুলেছিল, 'ইয়ে তো সির্ফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী, মথুরা বাকি হ্যায়।' যদিও তিন বছর আগে অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, আর বিবাদ নয়। সবাইকে এবার সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে। অন্যদিকে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, সঙ্ঘ শুধু অযোধ্যার আন্দোলনের সঙ্গেই নিজেকে যুক্ত রেখেছিল। এই ধরনের আর কোনও ধর্মীয় বিবাদে সঙ্ঘ জড়াবে না। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বারাণসী, মথুরার মসজিদকে 'ঝাঁকি' দেওয়ার চেষ্টাই শুরু হয়েছে আদালতের আঙিনায়।
হিন্দু সেনা নামে একটি সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মথুরার সিনিয়র ডিভিশন আদালত আগেই রায় দিয়েছিল, শাহী ইদগাহর নিচে মন্দিরের অংশ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তার প্রাথমিক পর্ব হল জমি জরিপ। সিনিয়র ডিভিশন আদালতের বিচারক বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ সরকারকে একজন সার্ভেয়ার বা আমিন নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জরিপের রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে।
আদালতের এই নির্দেশের পরও হিন্দু মহাসভার তরফে দাবি করা হয়, জরিপের সময় মুসলিম পক্ষ হাজির থাকলে হিন্দুদেরও উপস্থিত থাকতে দিতে হবে।
মামলায় হিন্দু পক্ষ আগেই দাবি করে যে শাহি ইদগাহ মসজিদে হিন্দু মন্দিরের প্রতীক রয়েছে যা প্রমাণ করে মসজিদের নীচে দেবতার গর্ভগৃহ এবং মন্দিরের আরও নির্দশন থাকতে পারে। বৈজ্ঞানিক জরিপে এগুলির সত্যতা প্রমাণিত হবে।
প্রসঙ্গত মথুরার জেলা আদালতের মামলা শুরুর কাছাকাছি সময় বারাণসীর জ্ঞানবাপী মজজিদ চত্ত্বরে শৃঙ্গার গৌরী মূর্তিকে সারা বছর পূজার্চনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন পাঁচ মহিলা। সেই মামলায় বারাণসীর আদালতের নির্দেশ হওয়া জরিপের সময় সেখানে থাকা জলাশয় থেকে একটি কালো পাথরের খণ্ড উদ্ধার হয়। হিন্দু পক্ষের দাবি, সেটি শিবলিঙ্গ।
শাহি ইদগাহ মসজিদ মথুরা শহরের শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির কমপ্লেক্সের লাগায়ো। হিন্দুদের একাংশের দাবি, মসজিদের জমিটিই শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান বা গর্ভগৃহ। আওরঙ্গজেব ১৬৬০-৭০ সাল নাগাদ শ্রী কৃষ্ণের জন্মস্থানে নির্মিত প্রাচীন কেশবনাথ মন্দিরটি ধ্বংস করে শাহি ইদগাহ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন বলে হিন্দু পক্ষের দাবি।
বারাণসী ও মথুরার এই মামলা ঘিরে দেশে ক্রমে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অনেকেরই আশঙ্কা। কারণ, দু’জায়গাতেই হিন্দু পক্ষ মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে বারাণসী ও মথুরায় অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিবাদের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মথুরায় জমি জরিপের নির্দেশ গত বছর ডিসেম্বরেই দিয়েছিল স্থানীয় নিম্ন আদালত। মুসলিম পক্ষ সেই রায়ে আপত্তি জানিয়ে সেশন আদালতে আপিল করে। বৃহস্পতিবার সেশন আদালতের সিনিয়র ডিভিশন বিচারক নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রাখেন।
মথুরার এই বিবাদ নতুন নয়। তবে শাহী মসজিদ ইদগা কমিটি এবং শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান সেবা সমিতি ১৯৬৮ সালে এক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সহাবস্থানের নীতি নিয়ে চলছিল। এখন হিন্দু সেনা নামে সংগঠনটি দাবি তুলেছে, সেবা সমিতির এই ধরনের বোঝাপড়া করার কোনও এক্তিয়ারই ছিল না।
কুয়োয় পড়ে মৃত বেড়ে ৩৫! এক বছর আগেই পুরসভা নোটিস ধরিয়েছিল ইন্দোরের ওই মন্দিরকে