
শেষ আপডেট: 15 May 2022 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায় কলমে তেলেঙ্গানায় (Telengana) বিধানসভা ভোটের এখনও বছর দেড়েক বাকি। কিন্তু শাসক দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রসমিতি (TRS) এবং দলের নেতা মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের (KCR) রাজনৈতিক তৎপরতা দেখে মনে হবে ভোট বুঝি আগামী মাসে। কখনও তিনি দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গর্জন করছেন, কখনও আবার রাজ্যে ফিরে এসে জেলা সফরে বেরিয়ে পড়ছেন।
শাসক দলের দেখাদেখি বিরোধীরাও গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে (Telengana)। দিন তিনেক আগে হায়দরাবাদ ঘুরে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দফায় দফায় বৈঠক করে দিন শেষে জানিয়ে দিয়েছেন, টিআরএস-কংগ্রেস বোঝাপড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

রবিবার গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আজ হায়দরাবাদ শহরের অদূরে বিজেপির (BJP) জনসভায় জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে সমস্ত চাল রাজ্য সরকার কিনে নেবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে না চাষিদের।
সেই সঙ্গে খুল্লামখুল্লা মুসলিমদের নিশানা করেছেন। বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের জন্য কোনও ধরনের সংরক্ষণ থাকবে না। চালু সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
ওই রাজ্যে বর্তমানে আর্থিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মতো পশ্চাৎপদ মুসলিম সম্প্রদায়গুলির জন্য সরকারি চাকরি এবং শিক্ষায় তার শতাংশ আসন সংরক্ষণ বলবৎ আছে। টিআরএস সরকার তাদের আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে মুসলিমদের ১২ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বিধানসভায় এই মর্মে বিল পাশ হওয়ার পরও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তা আটকে দেয়। তাদের বক্তব্য, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া যাবে না। আবার আর্থিক মানদণ্ডে ১২ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে গিয়ে দেখা যায় মোট সংরক্ষণ ৫৮ শতাংশ ছাপিয়ে যাচ্ছে যা সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ৫০ শতাংশের থেকে অনেকটাই বেশি। তাই চার শতাংশ সংরক্ষণ চালু আছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ওই চার শতাংশ সংরক্ষণও বিজেপি ক্ষমতায় এসে তুলে দেবে। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে দলিত এবং অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির লোকেরা উপকৃত হবে। যদিও মুসলিমদের সংরক্ষণটিও ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। আর্থিক মানদণ্ডে ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির অধীনে সংরক্ষণের ওই সুবিধা পেতে পারেন।
অমিত শাহের ওই হুঁশিয়ারি যে ভোট মেরুকরণের লক্ষ্যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ওই রাজ্যে মুসলিমরা জনসংখ্যার ১২ শতাংশের সামান্য বেশি। তবে হায়দারাবাদ-সহ নিজামের রাজ্যের বহু শহরেরই মুসলিমরা সংখ্যাধিক্য। বিজেপি তেলেঙ্গানায় উত্তরপ্রদেশ মডেল অনুসরণ করতে চাইছে। অর্থাৎ মুসলিমদের দূরে ঠেলে হিন্দুদের বুকে জড়িয়ে নেওয়ার কৌশল। তাই সবার আগে চাকরি, শিক্ষায় মুসলিমদের সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার বাসনার কথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পষ্ট করে দিচ্ছেন তারা মুসলিমদের ভোট চান না। বিনিময়ে চান হিন্দুদের সর্বাধিক ভোট। এই কৌশল উত্তরপ্রদেশে পুরোপুরি কাজ করেছে। ফলে বাকি রাজ্যগুলিতেও তারা এই কৌশল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাবে।
আবার তেলেঙ্গানার ভোটে বরাবর কৃষকদের থেকে সরকারের ধান কেনা হল অন্যতম ইস্যু। এবারও সেই ধারা বজায় আছে। কেন্দ্রীয় সরকার তেলেঙ্গানার চাষিদের থেকে ধান কিনছে না বলে মাসব্যাপী চিৎকার চেঁচামেচি করার পর গত মাসে কেসিআর দিল্লির রাস্তায় ধর্নায় বসেছিলেন। তাঁর দাবি, সব ধান-চাল কেন্দ্রীয় সরকাররে ন্যায্য দামে কিনে নিতে হবে।
মোদী সরকার ওই দাবিতে কর্ণপাত না করায় হায়দরাবাদে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারই কিনবে পুরো ধান-চাল। কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তেলেঙ্গানাবাসী এবং সরকার কারও কৃপাপ্রার্থী নয়।
এদিন অমিত শাহ কথা দেন, বিজেপির সরকার হওয়া মাত্র রাজ্য সরকারই কিনবে পুরো ধান-চাল। এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি বন্দি সঞ্জয় কুমারের প্রজা সংগ্রাম যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অমিত শাহ।