সিএএ চাপে বন্ধ ইন্টারনেট, ক্ষতি ঘণ্টা পিছু আড়াই কোটি, মাথায় হাত টেলি সংস্থাগুলির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি। গত এক সপ্তাহে বাংলার নানা জেলায় হিংসার আগুন জ্বলেছে। বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-
শেষ আপডেট: 27 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি। গত এক সপ্তাহে বাংলার নানা জেলায় হিংসার আগুন জ্বলেছে। বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-হিংসার জেরে দেশের নানা জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। ব্লক করে দেওয়া হয়েছে ফেসবুক, টুইটারের একাধিক অ্যাকাউন্ট। ইন্টারনেট বন্ধের জেরেই এবার প্রভূত ক্ষতির মুখে টেলিকম সংস্থাগুলি।
টেলিকম শিল্পে মন্দার ছায়া নেমেছে বহুদিন। বিপুল বকেয়ার বোঝায় জেরবার একাধিক টেলি সংস্থা। তারই মধ্যে দেশের নানাপ্রান্তে নেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়েছে। এই শিল্প সংস্থাগুলির সংগঠন সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিওএআই) জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের জেরে প্রতি ঘণ্টায় লোকসান হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা।
সিএএ ও এনআরসি নিয়ে হিংসা রুখতে দিল্লির একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে ভোডাফোন এবং এয়ারটেল। অশান্তি রুখতে বন্ধ করা হয়েছে ভয়েস কল এবং এসএমএস পরিষেবাও। উত্তরপ্রদেশের ২২ টি জেলায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। এখনও উত্তরপ্রদেশের ১৮টি জেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে অসম-মেঘালয়ে বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল ইন্টারনেট। বাংলার ৬টি জেলায় বেশ কিছুদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং নদিয়ার কিছু অংশে বেশ কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিওএআই সূত্রে খবর, সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের পরে জম্মু-কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই রাশ আলগা হলেও, এখনও কাশ্মীরের নানা জায়গায় নেট পরিষেবা স্তব্ধ। তারপরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে হিংসা মাথাচাড়া দেওয়ায় ফের দেশের নানা প্রান্তে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতে মাসে গ্রাহক পিছু গড়ে ৯.৮ জিবি ডেটা ব্যবহার হয় বলে সমীক্ষায় দাবি সুইডিশ সংস্থা এরিকসনের। যা সারা বিশ্বে সব চেয়ে বেশি। সেখানে নেট পরিষেবা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও সমস্যায় পড়েছে টেলি শিল্প।
সিওএআই-এর ডিরেক্টর রাজন ম্যাথেউস বলেছেন, ‘‘ ২০১৯ সালের শেষের দিকে ইন্টারনেট বন্ধের জেরে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দেশে যে ভাবে নেট পরিষেবা বাড়ছে, তাতে আমাদের হিসেব অনুসারে, বছর শেষে এই ক্ষতির অঙ্ক ঘণ্টায় প্রায় ২.৪৫ কোটি টাকা।’’ তবে এই বিষয় নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করেনি ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া ও রিলায়্যান্স জিও।