দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ও তার জেরে লকডাউনের জোড়া ধাক্কায় সারা দেশের অর্থনীতি কার্যত টলমল করছে। এমনই সময়ে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ট্রাইয়ের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এল মারাত্মক তথ্য। তারা বলছে, লক্ষ লক্ষ গ্রাহক হারিয়ে বেকায়দায় একাধিক টেলিকম সংস্থা।
ট্রাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র মে মাসেই দেশজুড়ে প্রায় ৫৭.৬ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছে একাধিক টেলিকম সংস্থা। ফলে মে মাসে দেশের মোট টেলিকম গ্রাহক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬.৩৬ কোটিতে। এপ্রিল মাসেও এই সংখ্যাটি ছিল ১১৬.৯৪ কোটি। লকডাউনের কারণে এখন বহু মানুষের বহু কাজই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও এই বিপুল পরিমাণ গ্রাহক কমে গেছে টেলিকমের। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের একটি আঁচও পাওয়া যাচ্ছে এই পরিসংখ্যানে।
যদিও এপ্রিল মাসে এই ধাক্কা আরও জোরালো ছিল। মোট ৮৫.৩ লক্ষ গ্রাহক হারিয়েছিল টেলিকম সংস্থাগুলি। সে সময় পুরোপুরি লকডাউন ছিল গোটা দেশ। ফলে এই ধাক্কাটা খানিকটা হয়তো প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তার পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোলেও, ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে মানুষের কাজকর্ম শুরু হলেও গ্রাহক সংখ্যায় অনেকটাই পতন হয়েছে মে মাসে।
ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এক একটি সংস্থা খুইয়েছে ৪৭ লক্ষ করে গ্রাহক। মোট ওয়্যারলেস কানেকশন কমেছে ৩০ কোটিরও বেশি।
এদিকে এই চরম সঙ্কটে অবশ্য তরতর করে বেড়ে চলেছে জিও-র ব্যবসা। এয়ারটেল বা ভোডাফোনের ব্যবসায়িক মন্দা যতই হোক, মে মাসে ৩৬ লক্ষের বেশি গ্রাহকে নিজেদের ঘরে টেনেছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স। বর্তমানে গোটা দেশে তাদের গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯.২ কোটি। তবে জিও একা নয়, এই সময়ে দু-লক্ষেরও বেশি নতুন গ্রাহক টেনেছে বিএসএনএলও।
পাশাপাশি ট্রাইয়ের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে গোটা দেশে শুধু মাত্র মে মাসে ২৯.৮ লক্ষ গ্রাহক নিজের বর্তমান নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে চেয়ে মোবাইল নম্বর পোর্ট করার জন্য আবেদন করেছেন।