দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে ওড়িশা ও পাঞ্জাব। একটি সূত্রের খবর, তেলঙ্গনাও সম্ভবত শনিবারই লকডাউনের মেয়াদ বাড়াতে চলেছে। দেশ জুড়ে লকডাউনে উঠে যাওয়ার কথা ১৪ এপ্রিল। তার আগে সম্ভবত রবিবার এসম্পর্কে কোনও ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার সেই ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে, রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা।
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও শনিবার দুপুর তিনটেয় প্রগতি ভবনে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে লকডাউন সম্পর্কে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা এখন কীরকম, গরিবদের জন্য কী প্রকল্প চালু করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে।
তেলঙ্গানা সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছে, লকডাউন তুলে নিলে ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হু হু করে বাড়বে। লকডাউনের ফলে যেটুকু সুফল মিলেছিল, সব নষ্ট হয়ে যাবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি এদিন উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে লকডাউন নিয়ে আলোচনা করেন। লকডাউন উঠে গেলে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে কথা বলেন।
এদিনই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-ও বলেন, তাঁদের রাজ্যে সম্ভবত সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় যদি মানুষের চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তাহলে রোগ আরও ছড়াবে।
ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে এক সাংবাদিক বৈঠকে অমরিন্দর বলেন, “বিশ্ব জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভারতেও বাড়ছে। পাঞ্জাব তো বিচ্ছিন্ন কোনও জায়গা নয়। আমরা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অতিমহামারীকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। কিন্তু তা ছড়াতে পারে। আমরা সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছি। তার অন্যতম হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।”
দেশে যে রাজ্যগুলি প্রথমে লকডাউন চালু করেছিল, পাঞ্জাব তাদের অন্যতম। অমরিন্দর সিং বলেন, “আমাদের রাজ্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার অনাবাসী ভারতীয় আছেন। তাঁদের অনেকে বিদেশ থেকে এসেছেন। যে দেশগুলিতে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রকোপ দেখা গিয়েছে, সেই সব দেশ থেকেও অনেকে এসেছেন। তাঁরা প্রথমে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন তাঁদের থেকে আরও ২৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আগেই বলা হয়েছে, ভারতে এখনও স্টেজ থ্রি শুরু হয়নি। অনেকের বক্তব্য, লকডাউনের জন্যই সংক্রমণ এখনও গোষ্ঠীগত ভাবে ছড়ায়নি। কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের সেই বক্তব্যকেই সিলমোহর দিল হু।