দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার বিহারে শপথ নিয়েছেন এনডিএ-র মন্ত্রীরা। কিন্তু সেই শপথগ্রহণ অইনুষ্ঠান বয়কট করল বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন পাওয়া দল আরজেডি। দলের নেতা তেজস্বী যাদবের দাবি, ভোটে জনাদেশ গিয়েছে এনডিএ-র বিপক্ষে। তাই তিনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করছেন।
সোমবার সকালে হিন্দিতে টুইট করে তেজস্বী বলেন, "মানুষ সরকার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। রাজ্যের বেকার, কৃষক, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও শিক্ষকদের কেউ জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন, তাঁরা কীভাবে বেঁচে আছেন। এনডিএ-র জোচ্চুরি দেখে মানুষ ক্রুদ্ধ। আমরা মানুষের প্রতিনিধি।"
অপর একটি টুইটে তিনি জেডি ইউ এবং বিজেপির সমালোচনা করে লেখেন, দু'টি অসহায় দল আজ একজোট হয়ে সরকার গঠন করছে। একটি দল দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। অপর দলের কোনও নেতা নেই। এর আগে তেজস্বী ভোটে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটগুলি ফের গোনা হোক।
ভোটের ছবি বলছে, তেজস্বীর মহাজোটকে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিয়েছে নির্বাচনে কংগ্রেসের ফল। কারণ, বামেরাও প্রত্যাশার তুলনায় ভাল ফল করেছে। তার মানে কংগ্রেস একটু ভাল ফল করলে ছবিটা হয়তো অন্যরকম হত। আর নির্বাচনে হারের জন্য এবার সরাসরি কংগ্রেসকে দায়ী করেছে আরজেডি। তাদের অভিযোগ, বিহারে নির্বাচনে পুরোদমে ঝাঁপায়নি কংগ্রেস। সংবাদসংস্থা এএনআইকে আরজেডি নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি বলেন, “মহাজোটের পায়ের শিকলে পরিণত হয়েছে কংগ্রেস। ওরা ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭০টি জনসভাও করেনি। রাহুল গান্ধী তিনদিনের জন্য এসেছিলেন। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া আসেননি। যাঁরা বিহারের সঙ্গে পরিচিত নয়, তাঁরা ভোট প্রচারে এসেছিলেন। এটা ঠিক নয়।”
শিবানন্দ আরও বলেন, “আমার মনে হয় শুধুমাত্র বিহারেই এই ঘটনা ঘটছে না। অন্যান্য রাজ্যেও কংগ্রেস বেশি জোর দেয় বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দিকেই, কিন্তু কীভাবে সেই প্রার্থীদের জেতাতে হবে সেই নিয়ে তারা কিছু ভাবে না। কংগ্রেসের এই বিষয়ে চিন্তা করা উচিত।”
এর জন্য সরাসরি কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেছেন শিবানন্দ। তিনি বলেন, “জোর কদমে নির্বাচন চলছিল, অন্যদিকে রাহুল গান্ধী সিমলাতে প্রিয়ঙ্কাজির বাড়িতে বসে পিকনিক করছিলেন। এভাবে কি একটা দল চলে? যেভাবে কংগ্রেস দল চলছে তাতে সেটা বিজেপিকেই বেশি সুবিধা করে দিচ্ছে।”
বিহারের নির্বাচনে ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ১৯টি আসনে জিতেছে তারা। তার থেকে অনেক কম আসনে প্রার্থী দিয়েও ভাল ফল করেছে বাম দলগুলি। একার ক্ষমতায় মহাজোটকে জেতানোর কাছে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন আরজেডি। আর তাই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরজেডির ক্ষোভ অনেক বেশি।