দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সকালে পিঁয়াজের মালা নিয়ে মিছিল করলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের শীর্ষ নেতা তেজস্বী যাদব। সবজির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন তিনি। তাঁর কথায়, "মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি আর বেকারত্বের জন্য সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়েছেন। কাজকর্ম, ব্যবসা, সবই বন্ধ হয়ে রয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও ব্যবসায়ীরা দু'বেলার খাবার জোটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।"
তেজস্বীর দাবি, বিজেপির জন্য ছোট ব্যবসায়ীরা শেষ হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি নেতারা গলায় পিঁয়াজের মালা পরে ঘুরছেন। তেজস্বী এদিন নিজে টুইট করে পিঁয়াজের মালা নিয়ে মিছিলের ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিহারের ১০ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে চাকরি দেবেন। এদিন তিনি ফের বলেন, বিহারে এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু হল বেকারত্ব।
শনিবার আরজেডির নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন তেজস্বী। পরে তিনি বলেন, "আমরা ১০ লক্ষ চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তাতে কোনও ফাঁকি নেই। আমরা বিজেপি সরকারের মতো ৫০ লক্ষ চাকরির ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিইনি।" পরে তিনি বলেন, "বিহারের রাজ্য বাজেটের পরিমাণ ২ লক্ষ ১৩ কোটি টাকা। তার মাত্র ৬০ শতাংশ খরচ করেছে নীতীশ কুমার সরকার। তারা ৪০ শতাংশ খরচ করতে পারেনি। ওই ৪০ শতাংশের পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকা।"
তেজস্বী বলেন, "আমরা বিহারের উন্নয়ন চাই। আমরা চাই বিহারে চাকরিতে নিয়োগের হার জাতীয় গড়ের থেকে বেশি হোক। নীতীশ কুমার আর বিহারের প্রশাসনের দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।"
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তেজস্বী বলেন, "পিঁয়াজের কেজি যখন ৫০-৬০ টাকা কেজি ছিল, তখন অনেকে হইচই করছিলেন। এখন পিঁয়াজের প্রতি কেজির দর উঠেছে ৮০ টাকা। এখন তাঁরা চুপ করে আছেন।" পরে তিনি বলেন, "চাষিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেন। যুবকরা চাকরি পাচ্ছেন না। বিহার ক্রমশ গরিব হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চাকরি ও চিকিৎসার জন্য অনেকে অন্য রাজ্যে যাচ্ছেন। রাজ্যে অনাহার বাড়ছে।"
এবার তেজস্বীর সভাগুলিতে প্রথম দিন থেকে ভাল জমায়েত হচ্ছে। নীতীশ কুমার যে হেতু বিজেপির জোট সঙ্গী তাই সংখ্যালঘু ভোটের পুরোটাই আরজেডি তথা তেজস্বীর দিকে ঝুঁকেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তা ছাড়া আরজেডির নিজস্ব যাদব ভোট তো রয়েছেই।