
শেষ আপডেট: 2 April 2024 20:36
সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনা
এক সময় জমিদার-জোতদারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। হলদি নদীর জল আন্দোলনকারীদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল। বেরমজুর এলাকার শ্যাওলা পড়া ভগ্নপ্রায় শহীদ বেদীতে এখনও জ্বলজ্বল করে চামু বিশাল, রতিরাম, রবি রাম, বাসন্তী সরদারদের নাম। সেই স্মৃতি উস্কে দিয়েছে সন্দেশখালির মহিলাদের প্রতিরোধ আন্দোলন। লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী নিরাপদ সর্দারের নেতৃত্বে সেখানে এখন ক্রমশ সংঘটিত হয়ে উঠছে বামপন্থীরা।
তৃণমূল বনাম বিজেপির টানাপড়েনের রাজনীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সন্দেশখালির আন্দোলনের উত্তরসুরী নিরাপদ সর্দারদের নিয়ে মানুষ কী স্বপ্ন দেখছেন? তার উত্তর দিয়েছেন তেভাগা আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য বিনয় সরকার। তাঁর বক্তব্য, " বাংলার ১৩৫৩ সালে আন্দোলন ছিল জোতদার, জমিদারদের বিরুদ্ধে। সেই সময়ে চাষিদের হকের পাওনা দিতে চাইছিল না তাঁরা। এখনকার লড়াইয়ে আমরা বামপন্থীদের উপর ভরসা রাখছি।"
তিনি আরও বলেন, "ধীরে ধীরে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের মোহ ভেঙে যাচ্ছে। তৃণমূল বিজেপি একই ধরনের পার্টি। এরা সংগ্রামে মধ্যে দিয়ে আসেনি। বামপন্থীরাই একমাত্র সংগ্রামী মানুষের দল। তাঁদের নেতৃত্বে তেভাগা কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এবারের লড়াই ত্রিমুখী। তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে বামেরা লড়তে চলেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মূলত বামেরা লড়াই করবে।"
শহীদ পরিবারের আরও এক সদস্য গৌরী পাত্র বলছেন, "আমরা রুখা-শুখা খেয়ে শান্তি ও নিরাপদে থাকতে চাই। আমি চাই বামেরই সন্দেশখালিতে জিতুক। আমরা বাবা-কাকারা রক্ত দিয়েছেন তেভাগা আন্দোলনে। তাই আমি নিশ্চিত বামেরাই সেই শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।"
সন্দেশখালির শাহজাহান আপাতত ইডি হেফাজতে। তার অনুগামীরাও এখন হাজতে। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সন্দেশখালি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপি এই লড়াইয়ে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে হাজি নুরুলকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন বাম নেতা নিরাপদ সর্দার। সন্দেশখালিতে কে দাঁত ফোটাবে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে ৪ জুন।