দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও পড়ুয়া আত্মঘাতী হলে, কোনও ভাবেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরে দোষ চাপানো যাবে না। একটি মামলার রায়ে এ কথাই জানিয়ে দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে জানাল, পড়ুয়ারা পড়ার চাপ নিতে পারছে কি না, তা বোঝার জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং-ও প্রয়োজন ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি পড়ুয়াদের।
আদালতের রায়ে বিচারপতি আরএমটি টীকা রামন কন্যাকুমারির তিন শিক্ষককে মুক্তি দেন। ২০০৫ সালে একটি স্কুলে ক্লাস টুয়েল্ভের এক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল মামলা। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের কম নম্বর দেওয়া এবং বকাবকির কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল ওই ছাত্র।
বিচারক আজ রায় ঘোষণার সময়ে বলেন, "শিক্ষকেরা যখন কোনও প্রতিষ্ঠানে পড়ান, সেই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের ভালর জন্য তাঁদের বকাবকি করেন, ভুল শুধরে দেন, তাদের কোনও বদভ্যাস থেকে বার করে আনার চেষ্টা করে আনেন, তখমন তাঁরা তা এক ও একমাত্র পড়ুয়াদের ভালর জন্যই করেন। এর পেছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য থাকে না কোনও শিক্ষকের। এই বকাবকি কখনওই আত্মহত্যার কারণ হতে পারে না। কম নম্বর পাওয়াটাও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে না।"
আত্মহত্যার নানা ঘটনার আরও বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে বিচারপতি জানান, শিক্ষাব্যবস্থা অনেক বেশি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে। এই বিষয়টা নিয়ে আরও আলোচনা, পদক্ষেপ প্রয়োজন। শিক্ষকদের উপর অভিযোগ দায়ের করা কোনও সমাধান নয়। বরং বাচ্চাদের মনস্তত্ত্বের যত্নের দিকে আরও বেশি জোর দিলে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যেতে পারে।
বিচারপতি নির্দেশ দেন, তাঁর রায়ের একটি করে প্রতিলিপি যাতে তামিলনাড়ুর সমস্ত স্কুলে ও কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই মোতাবেক প্রতিটি স্কুল ও কলেজ যেন ছাত্রছাত্রীদের মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে।