দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিন আগেই সদ্য পেরিয়েছে পিতৃদিবস। বিশ্বের নানা প্রান্তের পিতাদের কথা সামনে এসেছে পুত্র বা কন্যাদের মারফত। কখনও আবার গর্বিত পিতারা ভাগ করে নিয়েছেন পিতৃত্বের আনন্দ। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের নিমুচ এলাকার এক চা বিক্রেতা সুরেশ গাংওয়ালের কাছে এই বছরের পিতৃদিবস একটু বেশিই আনন্দের ছিল। তাঁর মেয়ে সদ্য স্নাতক হয়েছে যে বায়ুসেনার অ্যাকাডেমি থেকে! পরিবারে তো বটেই, বংশেও প্রথম এমন সাফল্য এসেছে মেয়ে আঁচলের হাত ধরে। নিমুচের গরিব বাবার মতো ধনী আর কে হতে পারেন! শুধু স্নাতক হওয়াই নয়, গত শনিবার মেয়ে সাম্মানিক পুরস্কারও পেয়েছে খোদ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে!
মেয়ের চোখ ধাঁধানো সাফল্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতে করতেই ঝাপসা হয়ে আসছে সুরেশের চোখ। স্মৃতিপটে কত কিছু ভেসে আসছে। টাকা ছিল না, পয়সা ছিল না। দিন আনি দিন খাই পরিবারে বড় হয়েছিলেন তিনি নিজে। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে দশম শ্রেণিতেই ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা। তাই নিজের সন্তানদের পড়াশোনায় যেন কোনও আঁচ না পড়ে, সে জন্য জান লড়িয়ে দিয়েছিলেন।
'নামদেও টি স্টল'-এর মালিক, গর্বিত সুরেশ বলছিলেন, "কখনও মনে পড়ে না আমার স্ত্রী আমার থেকে কোনও দামী জিনিস কিছু চেয়েছেন। ছেলেমেয়ের প্রয়োজন পুরণ করাই ওর শেষ কথা ছিল। ও এখনও নকল ইমিটেশনের গয়না পরে। এই দিনটার জন্যই তো আমাদের এত কষ্ট, এত দিনের অপেক্ষা!"
তাঁর মেয়ে আঁচল যখন ছোট ছিল, প্রায়ই বাবার চায়ের দোকানে আসত। সেখানেই বসে হোমওয়ার্ক শেষ করত। আবার বাবাকে হাতে হাতে সাহায্যও করত। কিন্তু তাই বলে মেয়ে বলে আঁচলের লেখাপড়ায় এতটুকু কমতি ঘটতে দেননি সুরেশ ও তাঁর স্ত্রী ববিতা। ফলও মিলেছে তেমনই। বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন কন্যা। গর্বিত সুরেশ তাই বলেন, "এখনও শুনি কত জায়গায় ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য তেমন চেষ্টাই করছে না কত জন। আমরা তেমন করে ভাবিনি।"
তাই স্কুলপর্ব পার করার পরে ইনদোরের কোচিং ইনস্টিটিউটে মেয়ে আঁচলকে ভর্তি করার জন্য বড় মাপের ঋণ নেন সুরেশ। ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যও টাকার দরকার ছিল। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ছেলেমেয়ে একদিন সফল হয়ে সেই ঋণ শোধ করব তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে। আজ শুধু ঋণ শোধের আশ্বাস নয়, বাবাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিনটি উপহার দিয়েছেন কন্যা।
তবে মেয়ের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তাঁরা যেতে পারেননি হায়দরাবাদে। এই আক্ষেপ রয়েই গেছে সুরেশের। লকডাউনের কারণে মেয়ের সাফল্যের অনুষ্ঠান নিজের চোখে দেখা হল না সুরেশদের। তবে তাতে অবশ্য আনন্দে ভাটা পড়েনি এতটুকু। মেয়ে একদিন সারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে, এটাই বিশ্বাস বায়ুসেনা অফিসার আঁচল গাংওয়ালের পরিবারের।