
শেষ আপডেট: 13 July 2020 18:30
জেএনইউ-এর সেন্টার ফর মলিকিউলার মেডিসিনের চেয়ারম্যান গোবর্ধন দাস জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ১০ কোটির বেশি শিশুকে বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এই টিকা এমনিতেই শরীরে যে কোনও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। কোভিড সংক্রমণের মোকাবিলায় নতুনভাবে যে টিকা তৈরি করা হয়েছে তা ইমিউন সিস্টেমকে আরও মজবুত করে তুলবে। ভারত ছাড়াও চিন, ইন্দোনেশিয়া, ব্রিটেন, ইতালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডে বিসিজি ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সুফল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ছ’রকমের বিসিজি স্ট্রেন নিয়ে এই টিকা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষক গোবর্ধন দাস। যার মধ্যে বিসিজি পাস্তুর, বিসিজি টোকিও, বিসিজি ড্যানিশ, বিসিজি রাশিয়ার স্ট্রেন থেকে তৈরি ভ্যাকসিন আশা জাগিয়েছে বলে দাবি। ভারতে সব স্ট্রেনের কম্বিনেশনে টিকা তৈরি হয়েছে। যে কোনও ভাইরাল প্রোটিনের মোকাবিলা করতে সক্ষম এই টিকা।
দিল্লির জেএনইউ-এর মতো মার্কিন বিজ্ঞানীদের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্টেও বলা হয়েছে বিসিজি ভ্যাকসিন যে কোনও সংক্রামক রোগের মোকাবিলা করতে পারে। কোভিডে মৃত্যুর ঝুঁকিও কমাতে পারে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স থেকে প্রকাশিত জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
১৯১৯ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে যক্ষ্মা রোগের এই প্রতিষেধকটি আবিষ্কার করেন ক্যামিল গেরান ও অ্যালবার্ট ক্যালমেট। ১৯২১ সালে প্রথম এই ভ্যাকসিন মানুষের উপরে প্রয়োগ করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধই নয়, এই ভ্যাকসিন শিশু মৃত্যুর হারও কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক স্ট্রেনগুলোকে অকেজো করতে পারে এই ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগে শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
‘নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-র বিজ্ঞানী গোঞ্জালো ওতাজু দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কতজনের মৃত্যু হচ্ছে ও কতজন আক্রান্ত তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক আছে বিসিজি ভ্যাকসিনের। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইতালিতে এই ভ্যাকসিনের ব্যবহার নেই বা কম, তাই এই দুই দেশে সংক্রমণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। অন্যদিকে, ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্পেন, জার্মানি আগে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করলেও পরে বন্ধ করে দেয়। তাই সেইসব দেশেও সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া করোনাকে কাবু করতে পেরেছে, কারণ তাদের দেশে বিসিজি ভ্যাকসিনের প্রয়োগ আছে।