দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং গুজরাত। বৃহস্পতিবার এই পাঁচটি রাজ্যের ৩৫ টি জায়গায় হিন্দি দৈনিক ভাস্কর গ্রুপের অফিসে তল্লাশি করল আয়কর দফতর। ওই গ্রুপের কয়েকজন প্রমোটারের বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই গ্রুপ বহুদিন ধরে কর ফাঁকি দিচ্ছে। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের একটি টিভি চ্যানেলের অফিসেও এদিন তল্লাশি হয়।
দৈনিক ভাস্কর গ্রুপের এক সম্পাদক জানিয়েছেন, তাঁদের জয়পুর, আমেদাবাদ, ভোপাল ও ইন্দোরের অফিসে তল্লাশি করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের যে চ্যানেলের অফিসে তল্লাশি হয়েছে, তার নাম ‘ভারত সমাচার’। লখনউতে তাদের অফিসে ও সম্পাদকের বাড়িতে তল্লাশি করা হয়েছে। ‘ভারত সমাচার’ চ্যানেলটি সম্প্রতি কয়েকটি ইস্যুতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছিল। আয়কর দফতরের দাবি, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার নির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েই ওই চ্যানেলের অফিসে তল্লাশি করা হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, দৈনিক ভাস্কর এবং ভারত সমাচার কোভিড মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছিল। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ টুইট করে বলেন, “কোভিড মোকাবিলায় শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। ভাস্কর সেই ব্যর্থতার কথা তাদের সংবাদপত্রে তুলে ধরেছিল। এখন তারই মূল্য দিচ্ছে তারা।” প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ শৌরিকে উদ্ধৃত করে জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “ভারতে এখন মোদীফায়েড এমার্জেন্সি চলছে।”
দৈনিক ভাস্কর গ্রুপ দেশের বৃহত্তম সংবাদপত্র গোষ্ঠীগুলির অন্যতম। গত এপ্রিল-মে মাসে যখন কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ তুঙ্গে, তখন অক্সিজেন, ভ্যাকসিন ও হাসপাতালে বেডের অভাব নিয়ে অনেকগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক ভাস্কর। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশে গঙ্গায় ভেসে যাচ্ছে মৃতদেহ। সম্ভবত মৃতদের প্রিয়জনেরা দাহ করার খরচ জোগাড় করতে পারেননি। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে অনেক জায়গায় গঙ্গার পাড়ে মৃতদেহ পুঁতে ফেলা হয়েছিল। এসম্পর্কেও ভাস্করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
একমাস আগে আমেরিকার ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় দৈনিক ভাস্করের সম্পাদক ওম গৌড়ের একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাতে মোদী সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছিল, ‘গঙ্গা মৃতদেহগুলি ফিরিয়ে দিচ্ছে। নদী মিথ্যা কথা বলে না।’
বুধবারই রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, অক্সিজেনের অভাবে একজন কোভিড রোগীরও মৃত্যু হয়নি। রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল অক্সিজেন সঙ্কটে রোগী মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুললে, নতুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার স্পষ্ট জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিষয় নয়। কোভিড চিকিৎসা ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট দেয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মৃত্যু হয়েছে এমন তথ্য কেন্দ্রের জানা নেই। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সরকার আলাদা করে কেন্দ্রকে এমন কোনও তথ্য খাতায় কলমে দেয়নি। কেন্দ্রের এমন দাবির পরেই বিরোধী শিবিরের তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।