টাটাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক হল সেই সময়, যখন বিজিবিএস-এর (BGBS) পর রাজ্যে নতুন করে ৩১৬৫টি প্রকল্প ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবার আরও সক্রিয় টাটা গোষ্ঠী (Tata)। মঙ্গলবার নবান্নে (Nabanna) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee) সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকে বসেন টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান (Tata Sons Chairman) এন চন্দ্রশেখরন।
নবান্ন সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যে নতুন শিল্পস্থাপন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এদিনের বৈঠক ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, “টাটা গোষ্ঠীর মতো প্রগতিশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাংলার প্রতি যে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বাংলা এখন শিল্পের উপযুক্ত গন্তব্য হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে।”
Smt. @MamataOfficial welcomed Shri Natarajan Chandrasekaran, Chairman of Tata Sons.
Their conversation centred on deepening the Tata Group’s presence in the state, underscoring Bengal’s emergence as a preferred destination for forward-looking industry leaders. pic.twitter.com/faJq00FMSk— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) July 9, 2025
টাটাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক হল সেই সময়, যখন বিজিবিএস-এর (BGBS) পর রাজ্যে নতুন করে ৩১৬৫টি প্রকল্প ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। দুর্গাপুজোর পর শিল্প সংক্রান্ত একটি ‘বিজনেস কনক্লেভ’-এর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নিউ টাউনে টাটা মেডিসিটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এবার সেই তালিকায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা— এই তিন জেলায় শিল্পপ্রস্তাব নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে টাটা গোষ্ঠী।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও শিল্পপ্রস্তাব রাজ্যের আর্থিক ভিত মজবুত করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ারও খুলবে বলেই মত শিল্পমহলের।

প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর থেকে টাটাগোষ্ঠীর ফিরে যাওয়ার ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে বরাবরই দায়ী করে এসেছে সিপিএম-সহ বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। ওই ঘটনা ঘিরেই তৃণমূল সরকারের উপর ‘শিল্পবিরোধী’ তকমা সাঁটিয়ে দেওয়ার প্রয়াসও চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বর্তমানে বাংলায় শিল্পস্থাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই আবার টাটাগোষ্ঠী আগ্রহ দেখাচ্ছে—এটি সেই বদলানো বাস্তবতারই স্পষ্ট প্রমাণ।