দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিভিন্ন মহল থেকে জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বাজারে আসবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতে যথাসময়ে প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়া যায়, সেজন্য এক্সপার্ট কমিটি গড়েছে মোদী সরকার। তার শীর্ষে আছেন নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পল। সেই এক্সপার্ট কমিটি বৈঠকে বসবে আগামী বুধবার।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, কোভিড ১৯ রোগে ভারতে ২২ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ৪৪ হাজারের বেশি। এক্সপার্ট কমিটি বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে, কীভাবে সারা দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এক্সপার্ট কমিটি স্থির করবে, কোন কোন সংস্থার ভ্যাকসিন ভারতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য সরকারের কয়েকশ কোটি টাকা খরচ হবে। দেশের কোন প্রান্তে আগে ভ্যাকসিন পাঠানো দরকার তাও স্থির করবে কমিটি।
গত শুক্রবার এক্সপার্ট কমিটি গঠন করেন মন্ত্রিসভার সচিব। তাতে আছেন এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া, বিদেশমন্ত্রক, বায়োটেকনোলজি ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৬০১। করোনায় মৃত্যুহার কমেছে দেশে। এদিনের হিসেবে কোভিড ডেথ রেট ১.৯৯%। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই মৃত্যুহার কমতে শুরু করেছিল। গত সপ্তাহে কোভিড ডেথ রেট ছিল ২.৩৩%। সেখান থেকে মৃত্যুহার এক ধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ২.১৩ শতাংশে। মঙ্গলবারের বুলেটিনের ইতিবাচক দিকই হল মৃত্যুহার কমে ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
আরও একটা ইতিবাচক দিক হল এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর কমেছে দেশে। ১.১৭ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৬ পয়েন্টে। একজন করোনা রোগীর থেকে কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সেটা মাপা হয় আর নম্বর দিয়ে। এই হিসেবের মাপকাঠিতেই নির্ণয় করা হয় সংক্রমণ কতটা ছড়িয়ে পড়ল এবং কতজনের মধ্যে ছড়াল। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের হার বা কোভিড ট্রান্সমিশন রেটের সঙ্গে এই আর নম্বরের সম্পর্ক রয়েছে। দিল্লিতে গত সপ্তাহে আর নম্বর ছিল ০.৬৬ থেকে ০.৬৮ পয়েন্টের মধ্যে। এখন একের নিচে নেমে গেছে। মুম্বই ও চেন্নাইতেও আর নম্বর ছিল যথাক্রমে ০.৮১ ও ০.৮৬। এই দুই শহরেও আর নম্বর একের নিচে।