দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রনিক সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় ইটোলিজুমাবের কার্যকারীতা প্রমাণিত হয়েছে আগেই। ভারতের প্রথম সারির বায়োটেকনোলজি সংস্থা বায়োকনের তৈরি এই ওষুধ ব্যবহারের সম্মতি আগেই দিয়েছিল ড্রাগ কন্ট্রোল। সম্প্রতি ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স জানাচ্ছে, কোভিড থেরাপিতে রোগীদের শরীরে ইটোলিজুমাবের প্রভাব কেমন হবে তার সঠিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। কম সংখ্যক রোগীর উপরে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের যে রিপোর্ট এসেছে তার উপর ভিত্তি করে সার্বিকভাবে এই ওষুধের ব্যবহারে সম্মতি দেওয়া যাবে না।
ভারতে করোনা চিকিৎসায় কী কী ওষুধ ব্যবহার করা হবে, কোন থেরাপির প্রয়োগ করবেন ডাক্তাররা তার সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতেই টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে এই টাস্ক ফোর্সে রয়েছেন আয়ুষ মন্ত্রক, কেন্দ্রের বায়োটেকনোলজি বিভাগ, আইসিএমআর সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের গবেষক, আধিকারিকরা। করোনার চিকিৎসার হাল হকিকত জানাতে তৈরি হয়ছে ‘ক্লিনিকাল ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল’ ।
ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স কী দাবি করেছে
টাস্ক ফোর্স জানাচ্ছে, ত্বকের রোগ সোরিয়াসিস সারাতে পারে ইটোলিজুমাব, প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমাতেও উপযোগী এই ওষুধ, তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে। যদিও ড্রাগ কন্ট্রোল পুরোপুরি সম্মতি না দিলেও জানিয়েছিল, জরুরি ভিত্তিতে এই ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স জানাচ্ছে, আরও বেশি ক্লিনিকাল ট্রায়াল ও সেফটি ট্রায়ালে এই ওষুধের উপকারিতা প্রমাণিত হলে তবেই করোনা রোগীদের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। তার আগে করোনা ওষুধের সলিডারিটি ট্রায়ালে রাখা যাবে না ইটোলিজুমাবকে।
২০১৩ সাল থেকে ভারতের বাজারে সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ইটোলিজুমাব। দেশে এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ‘আলজুমাব’ । এই ওষুধ হল একপ্রকার মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি যার কাজ সাইটোকাইন প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রাখা। এই সাইটোকাইন প্রোটিনের বেশি ক্ষরণ হলেই শরীরে তীব্র ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয়। করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রদাহজনিত রোগই বেশি হচ্ছে। তাই ইটোলিজুমাব ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছিল বায়োকন।
বায়োকন কী দাবি করেছিল
বায়োকনের একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান কিরণ মজুমদার শ বলেছিলেন, চার পর্যায়ের রিকভারি ট্রায়াল হয়েছিল ইটোলিজুমাবের। ৩০ জন করোনা রোগীকে ইন্টারমাস্কুলার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এই ৩০ জনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল। সংস্থার তরফে আরও দাবি করা হয়, প্রায় মাস দুয়েক ধরে ওষুধের ডোজ প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা গেছে ২০ জন করোনা রোগী সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। পরে বাকি দশজনকেও ইটোলিজুমাব ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তাঁদের অবস্থাও এখন স্থিতিশীল। শুধু তাই নয়, এই ওষুধের সঠিক প্রয়োগে কোভিড সংক্রমণজনিত কারণে মৃত্যুহার কমার আশা ৬২% বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিরণের বক্তব্য ছিল, কোভিড থেরাপিতে সোরিয়াসিসের ওষুধ ইটোলিজুমাব গেম চেঞ্জার হতে পারে।