
শেষ আপডেট: 6 July 2023 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের হয়ে ১৬ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন তামিম ইকবাল। তাঁর ইচ্ছে ছিল ক্রিকেটের যে কোনও একটি ফরম্যাটে দশ হাজার রান পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সেটি পারলেন না। এমনকী মাঠ থেকেও অবসর নিতে পারেননি। চট্টগ্রামে নিজের শহরে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন এই নামী ক্রিকেটার।
ওয়ান ডে ক্রিকেটে তাঁর ২৪১ ম্যাচে মোট রান ৮৩১৩ রান, সর্বোচ্চ ১৫৮ রান। গড় ৩৬.৬২, স্ট্রাইক রেট, ৭৮.৫৪, ১৫টি সেঞ্চুরি ও ৫৬টি হাফসেঞ্চুরি।
টেস্টে মোট ৭০টি ম্যাচ রান ৫১৩৪। সর্বোচ্চ ২০৬ রান, গড় ৩৮.৩৯, সেঞ্চুরি ১০টি ও হাফসেঞ্চুরি ৩১টি। তাঁর পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে তিনি কত বড়মাপের তারকা ছিলেন।
তিনি যে অনেক অপমানিত হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি বোঝা গিয়েছে। তামিম সাংবাদিকদের যা বলেছেন, সেগুলি পরপর সাজালে বোঝাই যাবে, তাঁকে সরে যেতে হয়েছে। বোর্ড কর্তারা ও দলের বিদেশি কোচ হাতুরেসিংঙ্ঘে তাঁকে আক্রমণ করেছেন। তিনি সেটি মানতে পারেননি।
তার মধ্যে তামিম আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে বলেছিলেন, তিনি সম্পূর্ণ ফিট নন, তারপরেও তিনি মাঠে নামবেন, আর দলকে জয়ের পথ দেখাবেন। গতকাল রাতের ম্যাচে আফগানদের কাছে হারের পরে কর্তারা সবাই অধিনায়ক তামিমকে কাঠগড়ায় তুলেছেন, তিনি সেটি মানতে পারেননি। তাই টিম হোটেল থেকে বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেই বৃহস্পতিবার অবসরের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, রাতেই বাংলাদেশের কোচ সংস্থার কর্তাদের ফোন করে তামিমের বিষয়ে নালিশ করেছেন। সেটি শুনে বাংলাদেশ কর্তারা তামিমকে প্রশ্ন করতেই তিনি অভিমানী হয়ে যান। বলেও দিয়েছেন, আর নয়, অনেক হয়েছে, এভাবে চলতে পারে না।
এদিন সকালে অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন পর্যন্ত ফোন করেছিলেন তামিমকে, যাতে তিনি অবসর না নেন। কিন্তু ওপার বাংলার ক্রিকেটের সেরা প্রতিভা তার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
এটাও বোঝা গিয়েছে তিনি অপমানে বহু কথা প্রকাশ্যে বলে উঠতে পারেননি। পরবর্তীকালে সেগুলি জানাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তারাও আগামী ৮ জুলাই তামিমের অবসর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেবেন।