দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গি নাশকতার চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হল দক্ষিণে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ৬ লস্কর জঙ্গি ঢুকে পড়েছে তামিলনাড়ুতে। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে শ্রীলঙ্কা থেকে জলপথে তারা রাজ্যে ঢুকেছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সতর্ক করা হয়েছে রাজ্য পুলিশকে। হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে। সতর্কতা জারি হয়েছে কেরল ও কর্নাটকেও।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, মনে করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মধ্যে পাঁচ জন শ্রীলঙ্কা থেকে জলপথে ঢুকেছে কোয়েম্বত্তূরে। একজন পাকিস্তানের লস্কর ঘাঁটির সক্রিয় সদস্য। নাম ইলিয়াস আনওয়ার। গতকাল রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ, কোয়েম্বত্তূর পুলিশ তরফে জানানো হয়, একজন পাকিস্তানি ও ৫ জন শ্রীলঙ্কার তামিল মুসলিম নিজেদের হিন্দু পরিচয় দিয়ে রাজ্যে ঢুকেছে। শহরের বড় শপিং মল, রেল স্টেশন, বাস স্টপ, বিমানবন্দরে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে দেশে জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কা দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআইএ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক ডজনেরও বেশি জঙ্গি সংগঠন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং তালিবানদের ১৫০ জন সক্রিয় সদস্য ভারতে ঢোকার জন্য ওঁৎ পেতে রয়েছে। জইশ মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই ইব্রাহিম আথারকে ইতিমধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দেখা গেছে। পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কা থেকেও জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গোটা রাজ্য জুড়েই চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে নৌবাহিনী। চোখ রাখা হচ্ছে মৎস্যজীবীদের নৌকা ও ভুটভুটিগুলিতেও। ইস্টারের রবিবার শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণে পর থেকেই দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে জঙ্গি হামলার অ্যালার্ট জারি করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বেঙ্গালুরুতে রয়েছে ৫০০-র বেশি আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। তাছাড়া আছে এরোস্পেস ইণ্ডাস্ট্রিজ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর অফিস, ডিফেন্স ল্যাবরেটরি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ও রাষ্ট্রায়ত্ত বেশ কয়েকটি গবেষণা সংস্থার অফিস। পাশাপাশি, চেন্নাই, কোয়েম্বত্তূরেও রয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস। এখানে বহু মানুষ চাকরি, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন ও আরও নানা উদ্দেশ্যে আসেন। সুনির্দিষ্ট কোনও হামলার খবর না থাকলেও আশঙ্কা অমুলক নয় বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা।