দ্য ওয়াল ব্যুরো : ছ’সপ্তাহ ধরে লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে রয়েছে উত্তেজনা। তার জেরেই সোমবার রাতে দু’পক্ষের কয়েকশ সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর আগে উত্তেজনা কমানোর জন্য দুই দেশের সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেলরা বৈঠকে বসেছিলেন। তারপরে চিন বলেছিল, আমাদের মধ্যে ইতিবাচক ঐকমত্য হয়েছে। কিন্তু লাদাখে সংঘর্ষের পরে বুধবার ভারতের সেনাবাহিনী জানাল, সেনাকর্তাদের আলোচনায় নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কয়েকবার বৈঠক হওয়া প্রয়োজন।
সেনাবাহিনী সূত্রে এদিন বলা হয়েছে, “চিনাদের সঙ্গে বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনই সীমান্তের পরিস্থিতি বদলাবে না।” একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে দু’পক্ষ ফের আলোচনায় বসবে।
বুধবার জানা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের ১৫ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত গালওয়ান নদীর উপত্যকায় চিনারা একটি তাঁবু বানিয়েছিল। গত ৬ জুন দুই দেশের সেনাকর্তাদের বৈঠকে স্থির হয়, চিন ওই তাঁবু সরিয়ে নেবে।
সোমবার বিকালে ভারতীয় সেনা ওই তাঁবু সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। তখন চিনা জওয়ানরা ভারতীয় সেনার কর্নেল বি এল সন্তোষ বাবুকে আক্রমণ করে। দুই দেশের সেনার হাতেই ছিল ব্যাটন ও কাঁটা লাগানো রড। ভারতীয় সেনা সন্তোষ বাবুকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে মারপিট বেধে যায়। দু’পক্ষই আরও সেনা ডেকে পাঠায়। মোট ছ’ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। কয়েকজন সৈনিক নদীতে পড়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় সেনা জানায়, চিনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক কর্নেল ও দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় আরও একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, সংঘর্ষে আরও ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তাঁরা মারা গিয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “গালওয়ান উপত্যকায় আমাদের কয়েকজন সেনা মারা গিয়েছেন। তাঁরা চরম সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। জাতি তাঁদের এই আত্মত্যাগ ভুলবে না।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এদিন বলেন, তিনি জাতিকে আশ্বাস দিতে চান, জওয়ানদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। ভারত শান্তি চায়। কিন্তু কেউ যদি তাকে উস্কানি দেয়, সে উপযুক্ত জবাব দিতে জানে। চিন থেকে বলা হয়েছে, যারা এই সংঘর্ষের জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি দিতে হবে। দুই দেশের নেতারা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা তা মেনে চলব।