দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাকে (Jinnah) 'স্বাধীনতা সংগ্রামী' বলে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ সিং যাদব। এই মন্তব্যের পিছনে মুসলিম ভোটের মেরুকরণের অঙ্ক দেখছেন অনেকে। গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের হরদোইতে এক জনসভায় অখিলেশ বলেন, "সর্দার প্যাটেল, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং জিন্না, সকলেই একই শিক্ষায়তনে পড়াশোনা করেছেন এবং ব্যারিস্টার হয়েছেন। পরবর্তীকালে তাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেন। তাঁরা কখনও সংগ্রামের ময়দান থেকে সরে আসেননি।"
আরএসএসের সমালোচনা করে অখিলেশ বলেন, "লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল একটি মতাদর্শকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। আজ যারা ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলছে, তারাই বাস্তবে ধর্ম ও জাতপাতের মাধ্যমে দেশে বিভেদ আনতে চায়।"
গান্ধী, নেহরু ও সর্দার প্যাটেলের সঙ্গে জিন্নার নাম উচ্চারণ করায় অখিলেশের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অখিলেশের মন্তব্য 'লজ্জাজনক'। তাঁর কথায়, "সমাজবাদী পার্টির প্রধান জিন্নার সঙ্গে বল্লভভাই প্যাটেলের তুলনা করেছেন। তাঁর মানসিকতা তালিবানের মতো। তিনি বিভেদে বিশ্বাস করেন।" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত' প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।
বিজেপি নেতা রাকেশ ত্রিপাঠি বলেন, অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিং যাদবও ছেলের মন্তব্য শুনে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আমাদের দেশ মনে করে, দেশভাগের জন্য জিন্নাই দায়ী। তাঁকে হিরো বলা মানে সংখ্যালঘুদের তোষণ করার চেষ্টা।
এদিনই অখিলেশ জানিয়ে দেন, তিনি কোনও কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াবেন না। তবে তার কারণ কী তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অনেকের মতে, গোটা রাজ্যে প্রচারের কারণেই হয়তো অখিলেশ একটি আসনে নিজে লড়ছেন না। কারণ তিনিই দলের প্রধান। তাঁকে গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচারে নেতৃত্ব দিতে হবে। সেক্ষেত্রে একটি আসনে তাঁকেই যদি পড়ে থাকতে হয় তা সার্বিক প্রচারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকে আবার এও বলছেন, দলের সেনাপতিই যদি লড়াইয়ের ময়দানে না থাকেন তাও দলের কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি-ও প্রচারে বলতে পারে, অখিলেশ ভয়ে দাঁড়াচ্ছেন না। অন্যদের সামনে ঠেলে দিয়ে নিজে লড়াই থেকে সরে গিয়েছেন। সেটাও আবার সপার ক্ষেত্রে বাড়তি বিড়ম্বনার হতে পারে।