
শেষ আপডেট: 21 December 2022 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানে আটক দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিল তালিবান (Taliban Release 2 Americans)। মঙ্গলবার তালিবানের তরফে জানানো হয়েছে, সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবেই মুক্তি দেওয়া হল দুই বন্দিকে। দুজনকেই কাতারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেখানেই বন্দিজীবনের শেষে ফের পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে তাঁদের।
সূত্রের খবর, ২০২২ সালের অগস্ট মাস থেকে আফগানিস্তানে আটক ছিলেন দুই মার্কিন নাগরিক। দুই বন্দির মধ্যে একজন হলেন আইভর শিয়ারার। তিনি পেশায় একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা। অন্যজনের পরিচয় জানানো হয়নি। আফগান রাজ্য দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানিয়েছেন, অন্য কোনও বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত কিংবা কোনও টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়নি ওই দুই বন্দিকে। বরং সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবেই নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
চলতি বছর আগস্ট মাসে আফগান প্রযোজক ফৈজুল্লা ফৈজবকশের সঙ্গে আফগানিস্তানে একটি ছবির জন্য শ্যুটিং করছিলেন আইভর। যে এলাকায় আল-কায়েদা নেতা আয়মান-আল-জওয়াহিরির মৃত্যু হয়েছিল, ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত সেই এলাকাতেই শ্যুটিং করার সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন আইভর এবং ফৈজুল্লা। আইভরকে বর্তমানে মুক্তি দেওয়া হলেও ফৈজুল্লাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে মার্ক আর ফ্রেরিচ নামে একজন মার্কিন ইঞ্জিনিয়ারকে মুক্তি দিয়েছিল আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন (Taliban)। কিন্তু সেটি ছিল শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। হাজি বসির নূরজাই নামে এক প্রখ্যাত আদিবাসী নেতা, যাঁকে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল আমেরিকা সরকার, তাঁকে মুক্তি দেওয়ার শর্তেই ছেড়ে দেওয়া হয় মার্ককে।
তালিবানি বর্বরতা পৃথিবীজুড়েই কুখ্যাত। এর আগে মঙ্গলবারই তালিবান প্রশাসন জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই। কোনও মহিলা পড়ুয়া, শিক্ষক কিংবা শিক্ষাকর্মী, কেউই ঢুকতে পারবে না কোনও আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মাঝেই দুই বন্দিকে বিনা শর্তে মুক্তির ঘটনায় তাজ্জব মানুষজন। এর পিছনে অন্যও কোনও উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
উচ্চশিক্ষার দরকার নেই, তালিবানি ফতোয়ায় মেয়েদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ হচ্ছে