
শেষ আপডেট: 22 September 2022 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালা ব্রিজ (Tala Bridge) ভাঙার পর থেকেই ঘরছাড়া ব্রিজের নিচের বস্তিবাসীরা (Tala Basti)। দীর্ঘ দু'বছর ধরে টালা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু তাঁদের পাকা বাড়ি এখনও তৈরি হয়নি। মাথার ওপর ছাদের আশায় লড়াই চালাচ্ছেন ১৪৫-১৫০টি পরিবারের মানুষ। নতুন টালা ব্রিজ উদ্বোধনের দিনে এই বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্যই ঘরের বন্দোবস্ত করার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
তিনটি দুর্গাপুজো উদ্বোধনের পর এদিন টালা ব্রিজ উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই ব্রিজ উদ্বোধনের পরেই টালা ব্রিজের বস্তিবাসীদের জন্য পাকা ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি। এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রেলের ডিআরএম। তাঁকে উদ্দেশ্য করেই এদিন মমতা বলেন, 'টালা ব্রিজ ভাঙার কারণে ১৪৫টি পরিবারকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে। আমি ডিআরএমের মাধ্যমে রেলকে অনুরোধ করব রেল যদি জমি দেয় রাজ্য সরকার কিনে নেবে। এখানে সরকারের কোনও জমি নেই সব রেলের।'
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রেলের তরফ থেকে যদি জমি না মেলে তাহলে ওই ঘরছাড়া মানুষদের কী হবে? মমতা জানান, 'যদি জায়গা না পাওয়া যায় তবে খালপাড়ের পাশেই তাঁদের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ওদের যেন আর কষ্ট না হয়।' এরপরই মঞ্চে উপস্থিত কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে মমতা বলেন, 'ববিকে বলব, এটার জন্য টাকা পয়সার যেন কোনও সমস্যা না হয়। গরিব মানুষগুলো যেন ঠিকমতো থাকতে পারে সেটা আমাদের দেখতে হবে। এটা আমার কমিটমেন্ট।' মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সম্মতি জানান ফিরহাদও।
শুধু বাস্তুহারাদের জন্য নয়, হকারদের জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'আমি উচ্ছেদের পক্ষে নই। আমি হকারদের পক্ষে। আমি বলেছিলাম হকারদের একটা নির্দিষ্ট কার্ড দেওয়ার জন্য। অনেকদিন হয়ে গেছে। এনাফ ইজ এনাফ। এখন এটার জন্য কাজ করতে হবে।'
আড়াই বছর আগে যখন টালা ব্রিজ ভাঙা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন ব্রিজের নীচে থাকা পরিবারদের উঠে যেতে হয়। এখন তাঁরা ব্রিজের আশেপাশেই অস্থায়ী ঘরে থাকছেন। কালো প্লাস্টিকে মোড়া থরে থরে সাজানো পর পর ঘর। মাথার ছাউনি বলতে চাটাইয়ের ওপর প্লাস্টিক মোড়া। একটা ঘরে আবার ২-৩ পরিবারের বাস। ছোট্ট কুটিরের মধ্যেই প্লাস্টিক দিয়ে আলাদা করা। এখন এটাই দেখার মমতার নির্দেশের পর কাজ কতদূর এগোয়।