
শেষ আপডেট: 12 October 2023 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: জীর্ণ অট্টালিকার ইটের পাঁজরে লুকিয়ে রয়েছে বহু অজানা ইতিহাস। একসময় কাঠের বিশাল ফটক দিয়ে টাকির জমিদার ঘোষবাবুদের বাড়িতে পা রেখেছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। এসেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও। সেই স্মৃতিবিজরিত টাকি জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে চলছে দেবীর আগমনের প্রস্তুতি। জমিদার বাড়ি এখন আর নেই। পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় স্থান হয়ে রয়েছে ভগ্নপ্রায় ঠাকুরদালান।
টাকি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইছামতি নদীর কাছেই রয়েছে ঘোষেদের জমিদারবাড়ি। এই পুজো শুরু করেছিলেন হরিনারায়ণ ঘোষ। ১৯২৭ সালে তিনি পোড়ামাটির ইটের দালানকোঠা তৈরি করেন।
ঘোষ বাড়ির উত্তরসূরি সজল ঘোষ জানান, তিনশো বছর পার করেছে এই পুজো। জমিদারি নেই, কিন্তু প্রতিমা নিরঞ্জনের যে প্রথা ছিল, সেটা আজও মেনে চলা হয়। বাড়ি থেকে দেবীকে কাঁধে করে জমিদার বাড়ির নিজস্ব ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
সজলবাবু আরও জানান, রথের দিন কাঠামো পুজো থেকে শুরু হয় তোড়জোড়। কাঠামোর কাঠ থেকে যে ছাল পাওয়া যায় সেটিই নবমী পুজোতে হোমে দেওয়া হয়। এবাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজোর আচার রয়েছে। তাই আমিষের ছোঁয়া থাকে না দেবীর ভোগে। বলি হিসাবে চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়া হয়। দেবীকে রান্না করা ভোগ নয়, কাঁচা ভোগ নিবেদন করা হয়।
দশমীর দিন বাড়ির মহিলারা দেবীকে বরণ করেন। সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সকলেই। এরপরে কাঁধে করে দেবীকে জমিদার বাড়ির ঘোষবাবুর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ভাবেই টাকির জমিদার বাড়িতে চলে আসছে দেবীর আরাধনা।