দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমার মন্তব্য ফিরিয়ে নিচ্ছি। মুম্বই পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখার অফিসার হেমন্ত কারকারে সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইলেন বিজেপির নেত্রী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। শুক্রবার তিনি মন্তব্য করেরন, আমার অভিশাপেই মরেছেন পুলিশ অফিসার হেমন্ত কারকারে। ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এদিনই বিজেপি জানিয়ে দিল, ওই মত সাধ্বী প্রজ্ঞার ‘ব্যক্তিগত’। জেলে অত্যাচার সহ্য করেছিলেন বলেই সম্ভবত সাধ্বী ওই মন্তব্য করে ফেলেছেন। ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় সাধ্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখার প্রধান হেমন্ত কারকারে।
সন্ধ্যায় সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, আমার মন্তব্যে যদি শত্রুরা খুশি হয়ে থাকে, তাহলে ওই কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আমি ক্ষমাও চাইছি। দেশের শত্রুরা খুশি হয়, এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। আমি যা অত্যাচার সহ্য করেছি, তার প্রতিকার করা যাবে না। কিন্তু হেমন্ত কারকারে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মারা গিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তিনি শহিদ।
এদিন দুপুরে সাধ্বী প্রজ্ঞা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আমি কারকারেকে বলেছিলাম, আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। আমাকে ছেড়ে দিন। তিনি বলেছিলেন, তোমাকে ছাড়ব না। ঠিক প্রমাণ যোগাড় করব। আমি তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলাম, আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন। তার দু’মাসের মাথায় জঙ্গিদের হাতে তিনি মারা পড়লেন।
https://twitter.com/ANI/status/1119115987746344960
সাধ্বী প্রজ্ঞা ওই কথা বলার পরে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হাততালি দেন। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইতে জঙ্গি হানা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন হেমন্ত কারকারে। সেবার জঙ্গিদের হাতে ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। তার আগে হেমন্ত কারকারে মালেগাঁও বিস্ফোরণে সাধ্বী প্রজ্ঞার যোগসাজশ নিয়ে তদন্ত করছিলেন।
সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, তদন্তকারী টিমের অনেকে হেমন্ত কারকারেকে বলেছিলেন, সাধ্বীর বিরুদ্ধে যখন কোনও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তাঁকে ছেড়ে দিন। হেমন্ত কারকারে বলেছিলেন, আমি সাধ্বীর বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজে বার করবই। সেজন্য যা করতে হয়, তাই করব। তাঁর মনে প্রবল ঘৃণা ছিল। তিনি ছিলেন দেশের শত্রু। তিনি ছিলেন ধর্মের বিরোধী। আপনারা বিশ্বাস করবেন না, আমি বলেছিলাম, তেরা সর্বনাশ হোগা। তার কিছুদিনের মধ্যে তিনি জঙ্গিদের হাতে খুন হন।
সাধ্বীর দাবি, তিনি যেদিন অভিশাপ দেন, সেদিন থেকে হেমন্ত কারকারের খারাপ সময় শুরু হয়। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেই খারাপ সময় শেষ হয়।
সাধ্বী ওই মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিজেপি বিবৃতি দিয়ে বলে, আমরা হেমন্ত কারকারেকে শহিদ বলে মনে করি। সাধ্বী প্রজ্ঞা যা বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত মত। হয়তো জেলে তিনি যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেছেন, তার জন্যই ওই কথা বলেছেন।
মালেগাঁও বিস্ফোরণে ছ’জন নিহত হন। আহত হন ১০১ জন। অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা এখন জামিনে মুক্ত আছেন। সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ-তে মামলা করা হয়েছিল।