
শেষ আপডেট: 7 May 2018 14:42
সাংহাই[/caption]
১৯২৬ সালে হাঙ্গেরির বিখ্যাত বালাতন লেকে কয়েক সপ্তাহ অবকাশ যাপন করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ। সেই স্মৃতি হিসেবে বালাতনে রয়েছে কবির আবক্ষ মূর্তি। হৃদপিণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে রবীন্দ্রনাথ তিন সপ্তাহের জন্য স্যানাটোরিয়ামে ভর্তি ছিলেন। তাঁর সম্মানে হাসপাতালে একটি স্মৃতিঘর আছে। রোমান্টিক একটি রাস্তার নাম করা হয়েছে তাঁর স্মৃতিতে। তাঁর হাতে লাগানো লেবুগাছের নিচে চমৎকার ভাস্কর্যর সঙ্গে রবিবাণী খোদাই করা।
[caption id="attachment_2094" align="alignleft" width="200"]
জর্ডন স্কোয়্যার, লন্ডন[/caption]
নোবেল-বিজয়ী হওয়ার পর কয়েকবার রবীন্দ্রনাথ প্যারিস ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে, তাঁর প্রথম প্যারিস ভ্রমণের একশো কুড়ি বছর পরে ‘প্যাসাজ র্যামন্ড’ রাস্তার নাম ‘র্যু টেগোর’ দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করে ফ্রান্স। রাস্তাসংলগ্ন উদ্যানটির নাম বিখ্যাত চিত্রশিল্পী স্পেনের জোয়ান মিরোর নামে। সেই উদ্যানে স্থাপিত হয়েছে কবি রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তি।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি পারস্যের অনুরাগ এখনও অটুট। ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর তাঁর সার্ধশতবার্ষিকীতে
ইরানের পার্লামেন্টে (মজলিস) উন্মোচন করা হয়েছে তাঁর স্মরণে একটি প্রস্তরফলক। তাতে উৎকীর্ণ তাঁর 'পারস্যে জন্মদিনে' কবিতাটি এবং তাঁর একটি চমকপ্রদ প্রতিকৃতি।
আইরিশ আইনসভার সামনে অপূর্ব ভাস্কর্যের প্রতীক হয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ।
[caption id="attachment_2096" align="alignright" width="300"]
ক্যানবেরা[/caption]
রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে ২০১০-এর ৩ জুন তাঁর ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি বসে লন্ডনের গর্ডন স্কোয়্যারে। টেগোর সেন্টার ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। সেটি তৈরি করেন ব্রিটিশ ভাস্কর শেন্ডা আমেরি। ২০১১-র ৭ জুলাই এর উদ্বোধন করেন প্রিন্স চার্লস। খরচ পড়েছিল ৫০ হাজার পাউন্ড।
ইউরোপের অনেক শহরেই রবীন্দ্রনাথের মূর্তি আছে৷ গোটা আমেরিকায় সে তুলনায় কম। হিউস্টন অফিসপাড়া থেকে মিনিট চল্লিশের পথ রে মিলার পার্ক৷ সেই বাগান, মানে 'টেগোর গ্রোভ'-এর একটি সুরম্য কোণে গাছগাছালির ছায়াঘেরা এক টুকরো শান্তিনিকেতনে দাঁড়িয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ৷ ২০১৩ সালে এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন তৎকালীন ভারতীয় কনসাল জেনারেল৷
[caption id="attachment_2095" align="alignleft" width="183"]
স্টার্টফোর্ড [/caption]
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় ২০১৬-র ৭ই মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষমূর্তির ফলক উন্মোচন হয়। থিও নোটারাস মাল্টিকাল্চারাল সেন্টারে (১৮০ লন্ডন সার্কিট, ক্যানবেরা) বসানো হয় মূর্তিটি।
শেক্সপিয়রের জন্মস্থানে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষমূর্তি বসাতে সেখানকার অছি পরিষদ নয়ের দশকের প্রথমার্ধে আবেদন করে এ রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর কাছে। ১৯৯৫-এর ৫ জুলাই পরিষদের হাতে দেওয়া হয় ব্রোঞ্জের আবক্ষমূর্তি। সেখানকার বাগানে বসানো হয় সেই রবি স্মৃতি।
এ ছাড়াও বিদেশের কোথাও কোথাও রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি। এতে বাংলাদেশের উল্লেখ নেই। কারণ, সোনার বাংলা তো তাঁর স্বদেশ!