দ্য ওয়াল ব্যুরো : মার্চে করোনা সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল সরকারের বিভিন্ন দফতর। তার মধ্যেই নিজামুদ্দিন দরগায় জমায়েত করেছিলেন তবলিগিরা। এর ফলে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সোমবার সংসদে এমনই জানাল সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি এদিন রাজ্যসভায় বলেন, "দিল্লি পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে, কোভিড ১৯ সংক্রমণ নিয়ে বিভিন্ন দফতর থেকে সতর্কতা দেওয়া সত্ত্বেও ঘেরা জায়গায় জমায়েত করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ওই জমায়েত চলে। তখন সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। মাস্ক বা স্যানিটাইজারও ব্যবহার করা হয়নি।" দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য ওই জমায়েতকেই 'বড় কারণ' বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এদিন শিবসেনার সাংসদ অনিল দেশাই রাজ্যসভায় প্রশ্ন করেন, কোনও সমাবেশ থেকে কি দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল? এরপরে লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৯ মার্চ তবলিগি জামাতের ২৩৬১ জনকে দিল্লি পুলিশ সরিয়ে দেয়। ২৩৩ জন গ্রেফতার হন। এখনও পর্যন্ত ৩৬ টি দেশের ৯৫৬ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে ৫৯ টি চার্জশিট দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাতে বলা হয়েছে, বিদেশিরা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন। পরে তাঁরা ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেন।
তবলিগি জমায়েতে বিদেশিরা বাদে দেশের নানা প্রান্তের হাজার তিনেক মানুষও জড়ো হয়েছিলেন। যদিও কোনও জমায়েত তখনও দেশে নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়নি তখন, তবু পরবর্তীকালে করনো সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয় এই জমায়েতই।
এ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও বয়ে যায় দেশজুড়ে। একইসঙ্গে চারিয়ে যায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষও। এর পাল্টা প্রতিবাদে অভিযোগ ওঠে, যেটা ভুল বা অন্যায়, সেটা সেই চোখেই দেখা হোক। বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণার চেখে নয়।
ওই জমায়েতে যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছিলেন তাঁদের খোঁজে মহামারী আইনের আওতায় লুকআউট নোটিস জারি করে বিদেশ মন্ত্রক। তার জেরে প্রভাব পড়ে তাঁদের ভিসাতেও।