তবলিগ প্রধানের আবেদন, যাঁরা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন তাঁরা রক্তের প্লাজমা দান করুন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিষেধ সত্ত্বেও ধর্মীয় জমায়েত করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তিনি এখনও পলাতক। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর গোপন ডেরাতে বসেই তবলিগ জামাত নেতা মৌলানা সাদ কন্ধলভি একটি বিবৃতি জারি করে জামাত সদস্যদের উদ্দেশে
শেষ আপডেট: 22 April 2020 02:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিষেধ সত্ত্বেও ধর্মীয় জমায়েত করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তিনি এখনও পলাতক। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর গোপন ডেরাতে বসেই তবলিগ জামাত নেতা মৌলানা সাদ কন্ধলভি একটি বিবৃতি জারি করে জামাত সদস্যদের উদ্দেশে আবেদন জানালেন। তাঁর আবেদন, যাঁরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন তাঁরা যেন রক্তের প্লাজমা দান করেন।
ওই বিবৃতিতে মৌলানা সাদ লিখেছেন, তিনি ও তাঁর সতীর্থ কয়েকজন জামাত সদস্য নাকি কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তাঁর এও দাবি, যে সব জামাত সদস্যরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁদের অধিকাংশেরই শরীরে কোনও করোনা সংক্রমণ ঘটেনি। বেশিরভাগেরই কোভিড টেস্টে নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে।
তাঁর কথায়, যাঁদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে তাদের অনেকেই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুতরাং তাঁরা যদি এখন রক্তের প্লাজমা দান করেন তা হলে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীর নিরাময়ে সুবিধা হবে।
ঘটনা হল, মৌলানা সাদকে পুলিশ যখন হন্যে হয়ে খুঁজছে তখন তিনি গোপন ডেরায় বসে বারবার দাবি করেছেন যে তিনি পলাতক নন, কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। সোমবারই মহম্মদ সাদ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, রমজান মাসে মুসলমানরা যেন এ বার বাড়িতে বসেই নমাজ পড়েন। মসজিদে যাওয়ার দরকার নেই।

অনেকের মতে, এ সব করে মহম্মদ সাদ আসলে সরকারকে বার্তা দিতে চাইছেন যে তিনি সরকার ও সমাজের উপকারের জন্য কত ভাবছেন। এবং তার মাধ্যমে সরকারের রোষানল থেকে রেহাই পেতে চাইছেন। দিল্লিতে কেজরিওয়াল সরকার যে পরীক্ষামূলক ভাবে রোগীর দেহে প্লাজমা থেরাপি শুরু করেছে তা সবাই জানেন। এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফলও পাওয়া গিয়েছে। সরকারের সেই উদ্যোগের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে হয়তো প্রকারান্তরে কৃপা প্রার্থনা করছেন তিনি, যাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার না করে।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর নেপথ্যে জামাত জমায়েত একটা বড় কারণ বলে কেজরিওয়াল সরকারই বারবার জানিয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক গত রবিবারও জানিয়েছে, দেশে মোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে এক তৃতীয়াংশেরই তবলিগ যোগ রয়েছে।