দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বুধবার সন্ধ্যায় মারা গিয়েছেন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি (Gilani)। পুলিশ গিলানির অন্ত্যেষ্টির ব্যবস্থা করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর দেহ সমাহিত হয়। শুক্রবার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, দেহটি পাকিস্তানি পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। যারা ওই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইন ইউএপিএ-তে মামলা করেছে পুলিশ।
৯২ বছর বয়সী গিলানির মৃত্যুর পরেই কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হওয়ার পরে পাকিস্তানি পতাকায় মোড়া গিলানির দেহের ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানি পতাকায় মোড়া গিলানির দেহের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন মহিলারা। সেখানে স্লোগান দেওয়া চলছে। ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে, মহিলারা কাউকে ঘরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন। ঘরের মধ্যে এক সশস্ত্র পুলিশকর্মীকেও দেখা যাচ্ছে।
গিলানির পরিবার অভিযোগ করে, প্রয়াত নেতার দেহটি পুলিশ জোর করে তাদের হেপাজত থেকে নিয়ে যায়। তাঁর অন্ত্যেষ্টির সময় পরিবারের লোকজনকে থাকতে দেওয়া হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিং বলেন, "দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।" ডিজি জানান, গিলানির বাড়িতে তাঁর পরিবারের লোকজন পুলিশের এক সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট ও অপর পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সেখানে দেশবিরোধী স্লোগান তোলা হয়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোন ব্যবহার করে মানুষকে উস্কানি দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল।
দিলবাগ সিং বলেন, "আমরা গিলানি সাহেবের পরিবারের লোকজনের থেকে এমন ব্যবহার আশা করিনি। তাঁর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত সপ্তাহে এক পুলিশকর্মী গিলানি সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁকে একটি বই উপহার দিয়েছিলেন।"
গিলানি চেয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাকিস্তানে মিশে যাক। তাঁর মৃত্যুতে পাকিস্তানের নানা শিবিরের রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, প্রয়াত নেতার স্মৃতিতে পাকিস্তানের পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। দেশব্যাপী একদিনের সরকারি শোক পালিত হবে। গিলানি ‘অত্যাচার, নির্যাতন’ সহ্য করেও অবিচল ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবারই ইমরান ট্যুইট করেন, কাশ্মীরী 'স্বাধীনতা সংগ্রামী' সৈয়দ আলি গিলানির মৃত্যু সংবাদে তিনি গভীর ব্যথিত। তিনি তাঁর লোকজন ও তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সমর্থনে সারা জীবন লড়াই করেছেন। আরও লেখেন, পাকিস্তানে আমরা তাঁর সাহসী সংগ্রামকে কুর্নিশ করি। ‘হাম পাকিস্তানি হ্যায় ঔর পাকিস্তান হামারা হ্যায়’-ওনার এই কথাগুলিও স্মরণ করি।