দ্য ওয়াল ব্যুরো : “আজ সুইগির সবচেয়ে দুঃখের দিন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের কোম্পানির বহর কমাতে হবে।” সোমবার কোম্পানির কর্মীদের এমনই বার্তা দিলেন সুইগির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শ্রীহর্ষ মাজেতি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ১১০০ কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে সুইগি। কিছুদিন আগে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা জোম্যাটো জানিয়েছিল, মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ ছাঁটাই করা হবে। এবার সেই পথে হাঁটল সুইগিও।
সুইগির সিইও জানিয়েছেন, বিভিন্ন শহরে ও হেড অফিসে কর্মরতদের মধ্যে ১১০০ জনকে বিদায় নিতে হবে। কারণ ডেলিভারি বিজনেসের ওপরে করোনা সংকটের ভালই প্রভাব পড়েছে। আমরা জানি না এই অনিশ্চয়তা কতদিন চলবে।
লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতির হাল হয়ে পড়েছে শোচনীয়। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিভিন্ন কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করবে। এরই মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং সংস্থা গোল্ডম্যান সাচ জানিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) কমবে ৪৫ শতাংশের বেশি। আশঙ্কা করা হয়েছিল, জিডিপি কমবে ২০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে কমেছে তার দ্বিগুণের বেশি। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অবশ্য জিডিপি বাড়বে ২০ শতাংশ। চতুর্থ ও পঞ্চম ত্রৈমাসিকে জিডিপি যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও সাড়ে ছয় শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গোল্ডম্যান সাচের দুই অর্থনীতিবিদ প্রাচী মিশ্র ও অ্যান্ড্রু টিলটন গত ১৭ মে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। তাতে বলেন, ২০২১ সালের আর্থিক বছরে প্রকৃত জিডিপি কমবে পাঁচ শতাংশ। এর ফলে ভারত এমন মন্দার কবলে পড়বে যা অতীতে কখনও পড়েনি।
ভারতে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিনে মোট পাঁচবার মিডিয়ার সামনে বক্তব্য পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, কোভিড ১৯ মোকাবিলায় সরকার ২০ লক্ষ কোটি টাকা কীভাবে খরচ করবে। ওই প্যাকেজের পরিমাণ ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১০ শতাংশের সমান।