একে যাকে বলে পাকিস্তানের পাল্টা মুর্শিদাবাদ! বিশেষ অধিবেশনের জন্যও রাজনৈতিক সংঘাত।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 23 May 2025 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশ সফররত সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা দেশে ফিরলেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন (Special Session) ডাকা হোক, এমনই দাবি করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার কার্যত তার পাল্টা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি চান, মুর্শিদাবাদের ঘটনা নিয়ে (Murshidabad Violence) রাজ্য বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন হোক। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু।
একে যাকে বলে পাকিস্তানের পাল্টা মুর্শিদাবাদ! বিশেষ অধিবেশনের জন্যও রাজনৈতিক সংঘাত। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিদেশের মাটিতে বিবরণ দিচ্ছে কেন্দ্রের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল। তবে মমতা চান, তাঁরা ফিরে এলেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন হোক পাকিস্তান ইস্যুতে। তাঁর মত, অন্যের থেকেও আগে দেশের মানুষের সবটা বিস্তারিতভাবে জানা উচিত। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পাল্টা দিয়েই মুর্শিদাবাদ ইস্যু ফের তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চান, সেই জেলার হিংসার ঘটনাও রাজ্যবাসীকে জানান হোক বিশেষ অধিবেশন করে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, এমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর রাজ্যের মানুষও চায়। তাই মুর্শিদাবাদ নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন রয়েছে। কী সেই প্রশ্ন? শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, ''রাজ্যের মানুষ এই প্রশ্নগুলির উত্তর চায় - কেন অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ ব্যর্থ হল? কেন শুধুমাত্র হিন্দুদের বাড়িকে নিশানা করা হল? কেন তৃণমূলের দলের লোকেরা এই পরিস্থিতি তৈরি করল?'' প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি জানিয়েছে, তৃণমূলের নেতারা হামলার পিছনে উস্কানি দিয়েছিলেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রেজিস্ট্রার যোগিন্দর সিং, রাজ্য জুডিশিয়ার সার্ভিসেসের সচিব অর্ণব ঘোষাল ও রাজ্য জুডিশিয়াল সার্ভিসেসের রেজিস্ট্রার সৌগত চক্রবর্তীকে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট গড়েছিল এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। তাঁরাই গত বুধবার রিপোর্ট দিয়েছে জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক হিংসা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পিছনে স্থানীয় একাধিক নেতার মদত রয়েছে।
ধুলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মেহেবুব আলমকে মূল 'দোষী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই রিপোর্টে। তদন্ত কমিটির সাফ কথা, আলম ধুলিয়ান পুরসভার প্রশাসকও ছিলেন কিন্তু হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ ছিল। একই সঙ্গে এও উল্লেখ করা হয়েছে, তৃণমূলের এক বিধায়ক ঘটনার দিন হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছিলেন। তিনিও অশান্তি রুখতে কোনও পদক্ষেপ নেননি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কাটাছেঁড়া করা হয়েছে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টে। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় যখন হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, যখন দোকান, বাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে, সেই সময় পুলিশ দর্শকের ভূমিকায় ছিল। হিংসা আটকাতে কোনও রকম চেষ্টাই করেনি।