
শেষ আপডেট: 30 December 2023 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে রোড শো করেছেন, নতুন ট্রেন ও বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেছেন। তার পর হয়েছে তাঁর জনসভা।
প্রধানমন্ত্রী ঠিক যে সময়ে রাম-নগরে ঘুরেছেন, প্রায় একই সময়ে উত্তর ২৪ন পরগনার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা বসিরহাটে সভা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বনগাঁ লোকসভা আসন বিজেপির ঝুলিতে থাকলেও বসিরহাটে গেরুয়া দল এর আগে সুবিধা করতে পারেনি। কারণ, সংখ্যালঘুদের আস্থা ও মন জয় করা সম্ভব হয়নি। এ হেন পরিস্থিতিতে চেষ্টা ছাড়লেন না শুভেন্দু।
এদিন বসিরহাটের সভায় শুভেন্দু বলেন, “আমার খুব ভাল লাগছে, অনেক চাচা, মুরুব্বি, মুসলমিরা এসেছেন। আপনারা একটু দাঁড়াবেন তো। আমরা জয় শ্রীরাম বলব, আপনারা ভারত মাতা কি জয় বলবেন। নো প্রবলেম।”
প্রবলেম আছে কি নেই সময় বলবে। তবে শুভেন্দু তা থেমে বলেন, “আমাদের ভগবান হলেন রামচন্দ্র। আর রাম রাজ্য মানে জানেন তো? তার মানে হল, প্রতি হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ। আমরা মুসলিমদের ওই রামরাজ্য দিতে চাই। এটাই হল সবকা সাথ সব কা বিকাশ। সকলের মঙ্গল হোক। এটাই মোদীজির মন্ত্র।”
অটলবিহারী বাজপেয়ীকে অনেকে কট্টরপন্থী নেতা হিসাবে দেখতেন বা মানতেন না। তাঁদের মতে, লালকৃষ্ণ আডবাণী অনেক বেশি কট্টর। আবার অনেকে মনে করেন, হিন্দুত্বের আবার কম বেশি কী! বাজপেয়ীকেও অযোধ্যায় যেতে হয়েছিল। এ হেন বিজেপি অতীতেও বারবার মুসলিম মন পাওয়ার চেষ্টা করেছে ভোটের আগে। কিন্তু কোথাও যে একটা আস্থার ঘাটতি রয়েছে তা বারবার ফুটে উঠেছে। ২০০৪ সালে লোকসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই হেরে গেছিলেন সেই ধাক্কায়। সেই ভোটে বিজেপি-তৃণমূল জোট হয়েছিল। শুভেন্দু ছিলেন তমলুকে তৃণমূলের প্রার্থী। ভোটের আগের দুদিন লক্ষ্ণণ শেঠরা গ্রামে গ্রামে গোধরা কাণ্ডে ভিডিও দেখাতে শুরু করেছিলেন। তার পর যা হওয়ার তাই ঘটে যায়।
Today I attended the Conference of Booth Presidents & Office-bearers of the Basirhat Organizational District.
— Suvendu Adhikari • শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) December 30, 2023
I am satisfied with the preparedness of our Karyakartas at this point of time and they have assured me that @BJP4Bengal will perform exceedingly well in the Basirhat Lok… pic.twitter.com/W49VdBGI0M
অনেকের মতে, ইতিহাসের অদ্ভূত মোড় এখন। সেই শুভেন্দুকেই এখন মোদীর মুখকে বিপণন করতে হচ্ছে। শুভেন্দু এদিন বলেন, “মুসলিমের সঙ্গে আমাদের কোনও বিবাদ নেই। প্রধানমন্ত্রী যতগুলো স্কিম এনেছেন, সেখানে জাতপাতের কোনও ভেদাভেদ নেই। সিএএ মানে কাউকে দেশ থেকে তাড়ানো নয়। মতুয়া, নমঃশুদ্র সমাজ থেকে যাঁরা বর্ণীয় উৎপীড়নের কারণে উৎখাত হয়ে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”
শুভেন্দুর দাবি, “সারা দেশে বিজেপি ১৬-১৭টা রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে, কোথাও একটা মুসলমানকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা কেউ বলতে পারবে না।” তাঁর কথায়, “তৃণমূল বিভাজনের রাজনীতি করছে। বিজেপির নামে কুৎসা রটাচ্ছে, যাতে বাংলার ৩০-৩৫ শতাংশ মুসলিম ভোট আঁকড়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে।“
একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “৬৫ হাজার সংখ্যালঘু ভোট থাকা নন্দীগ্রামে যদি জিততে পারি, তাহলে বসিরহাটে আপনারা পারবেন না কেন? কী করতে হবে আমরা জানি। ভয়মুক্ত পরিবেশ দরকার তো, কথা দিচ্ছি, আমি করে দেব।”
এরপরই দলীয় কর্মীদের হোম টাস্ক দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, আপনারা আমাকে একটা ফাইল করে দিন। ১৮ তে কত বুথে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জিতেছিল তৃণমূল, ১৯ সালে কত বুথে আমরা ১০০-র কম ভোট পেয়েছিলাম। ২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর কোন কোন গ্রাম অত্যাচারিত হয়েছে তার তালিকা। তেইশের বুথের ডিটেলস। বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দিন। ফুল প্রোটেকশন দিয়ে তবেই আপনাদের ২৪ এর যুদ্ধে নামাব।”