শুভেন্দু বলেন, "বিধানসভায় ঢুকে আমাদের ৬৫ জন বিধায়ক বুঝিয়ে দেবেন, বিজেপিতে একটা শুভেন্দু নেই, ৬৫টা শুভেন্দু আছে।"
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 September 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) আবারও একবার বিধানসভা (Bidhansabha) থেকে সাসপেন্ড (Suspend) করেছেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee)। আর এই ইস্যুতেই বাকি বিজেপি বিধায়করা (BJP MLA) বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধ্যক্ষ। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে শুভেন্দু বলেন, "বিধানসভায় ঢুকে আমাদের ৬৫ জন বিধায়ক বুঝিয়ে দেবেন, বিজেপিতে একটা শুভেন্দু নেই, ৬৫টা শুভেন্দু আছে।"
ঘটনার সূত্রপাত, বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় আলোচনার প্রস্তাব এনেছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় নাটকীয় মোড় নেয় বিধানসভায়। বক্তব্য রাখছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা দিবসের মঞ্চ খোলার অভিযোগ উঠেছিল সেনার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে নিজের ভাষণে সেনার ভূমিকার সমালোচনা করেন ব্রাত্য। উল্লেখ করেন পাকিস্তান সেনার একটি কর্মকাণ্ডের কথা। ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাধা দেন।
তিনি বলেন, “এভাবে ভারতীয় সেনা নিয়ে কথা বলা যায় না।” এরপরই তিনি একাধিকবার উচ্চস্বরে ‘ইন্ডিয়া আর্মি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সতর্ক করেন। কিন্তু শুভেন্দু তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ। বিধানসভা কক্ষের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেষমেশ শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার।
এদিন শুভেন্দু আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এবং সেগুলোকে চিহ্নিত করে যদি তাদের বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো না হয় তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দেওয়া হবে।
তাঁর কথায়, ২০২৪ সালের পরে যে সমস্ত বাংলাদেশি হিন্দুরা ভারতে এসেছে তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তারা শরণার্থী হিসেবে থাকতে পারবে। ভারত সরকার তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবে।
বস্তুত, এদিন বিধানসভার বাইরেই নয়া জিএসটি স্ল্যাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "মোদী সরকার মধ্যবিত্তের কথা ভেবেছে। সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জীবনদায়ী ওষুধে জিএসটি মকুব করা হয়েছে। ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে তাঁর সরকার ঐতিহাসিক উপহার তুলে দিয়েছেন। এর জন্য আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।"
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধী দলনেতা বলেন, "একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলায় পেট্রোল ডিজেলের স্টেট চার্জ তুলছে, বাজারে আগুন, পুলিশ, সরকারি কর্মচারী, শিক্ষকরা ডিএ পায় না। চাকরি নেই। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা সমকাজে সমবেতন পায় না। কৃষকরা ফসলের দাম পায় না। স্কুল উঠে গেছে। তখন মোদীজির নয়া জিএসটি ঐতিহাসিক। আয়ুস্মান ভারত না পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ বাইরে চলে যাচ্ছে। তখন এবং ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ডিজেলের দাম পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মারছে। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীজি গোটা দেশের মানুষের কথা ভেবে জীবনদায়ী ওষুধ, জীবনবিমার ক্ষেত্রে জিএসটি মকুব করে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"