শুভেন্দু অধিকারী এই বাজেট প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন - কেন্দ্রীয় বাজেট বাংলার মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার করেছে। শিল্পায়নের জোয়ার আনতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 1 February 2026 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক কথায় কেন্দ্রীয় বাজেটকে (Union Budget 2026) স্বাগত জানাচ্ছি - এই মন্তব্য করে তার প্রকৃত সুফল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) পাবে কি না - সে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC West Bengal) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।
রবিবার বাজেট (Budget News) পেশের পর তাঁর মন্তব্য, কেন্দ্র জনমুখী ও উন্নয়নকেন্দ্রিক রূপরেখা দিলেও, রাজ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষ সেই সুযোগের পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার (Budget For West Bengal) জন্য একাধিক বড় ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পূর্বাঞ্চলের শিল্প, পরিবহণ এবং পর্যটন পরিকাঠামোকে নতুন গতি দিতে যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে ‘ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর’-এর অংশ হিসেবে নতুন শিল্প করিডর গড়ে তোলার ঘোষণা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবহণ পরিকাঠামো নিয়েও বাজেটের ঘোষণাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর মতে, দেশে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরির পরিকল্পনার মধ্যে শিলিগুড়ি-বারাণসী রুটের অন্তর্ভুক্তি উত্তর ও পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে। শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘গেটওয়ে’ হিসেবে গড়ে তুলতে এই রেল সংযোগ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও তিনি মনে করেন।
আজকের কেন্দ্রীয় বাজেট বাংলার মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার করেছে। শিল্পায়নের জোয়ার আনতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশের প্রথম উপকূল ভিত্তিক করিডোর - ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর তৈরি হবে যা তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর পর্যন্ত… pic.twitter.com/3N2RX8G17g— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) February 1, 2026
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই বাজেট বাংলার মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়নের জোয়ার আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি - সমাজের প্রতিটি স্তরের কথা মাথায় রেখেই বাজেট তৈরি হয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ টানা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে শুল্ক যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার আবহে এই বাজেট ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে তুলবে বলেও মত তাঁর।
তবে একই সঙ্গে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা বলেন, রাজ্যে যতদিন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন কেন্দ্রের এই জনকল্যাণমূলক বাজেটের প্রকৃত সুফল বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছবে না। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের প্রকল্প ও বরাদ্দ রাজ্য সরকার সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের জনগণের কাছে আবেদন জানান, বর্তমান সরকারকে সরিয়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তাঁর সাফ বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলেই বাংলার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, শিল্প ও কর্মসংস্থানে নতুন জোয়ার আসবে। তৃণমূল সরকারের আমলে তা কখনও সম্ভব নয় বলেই তাঁর দাবি।