
শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়।
শেষ আপডেট: 17 July 2024 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির বিপর্যয়ের পর দলের মধ্যেই অনেকে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তুলছেন। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ঠারেঠোরে বোঝাতে চাইছেন শুভেন্দুর ভুল কৌশলের কারণেই এই অবস্থা। আবার রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কথাবার্তা শুনে অনেকে মনে করছেন, তিনিও দায় নিতে চাইছেন না।
পরিস্থিতি যখন এরকম, তখন শনিবার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে দলীয় বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, “মনে রাখবেন মুকুল রায়ের মতো সব কেড়ে নেওয়ার পর আমি বিজেপিতে আসিনি। আমি তৃণমূল থেকে সব ছেড়়ে বিজেপিতে এসেছিলাম। এবং বিজেপি থেকেই আমার রিটায়ারমেন্ট হবে।”
শুভেন্দু যখন বিজেপিতে আসেন তখন বাংলায় পরিবহণ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে জল সম্পদ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। তা ছাড়া হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন শুভেন্দু। শোনা যায়, শুভেন্দু যাতে দল না ছাড়ে সেজন্য তাঁকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও তৃণমূল ছাড়েন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
শুভেন্দু এদিন আরও বলেন, “আমি বিরোধী দলনেতা, সংগঠনের দায়িত্বে নেই। বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বে ব্যর্থতা রয়েছে কিনা, তা পরে খতিয়ে দেখা হবে। আগে বাংলার গণতন্ত্রকে রক্ষা করা জরুরি”। পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু পষ্টাপষ্টি বোঝাতে চেয়েছেন, সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায় তাঁর নয়। সেই দায় সুকান্তর বা সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর। যাঁরা বুথে স্তরে সংগঠন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংগঠনই যদি না থাকে তাহলে ভোট লুঠ ঠেকাবে কী দিয়ে?
এক সময় বাংলার রাজনীতিতে, বিশেষত তৃণমূলের রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠে আসলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর অবধারিতভাবে উঠে আসত মুকুল রায়ের নাম। তৃণমূলে অঘোষিত নাম্বার টু ছিলেন তিনি। কিন্ত সেই মুকুল রায়ে তৃণমূলে এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন যে দল ছাড়া তাঁর উপায় ছিল না। একুশের বিধানসভা ভোটের পর ফের তৃণমূলে ফিরলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার কিছুদিন পর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি রায়সাহেব।
লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির আসন এবার অনেক কমে গেছে। উপ নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি। তাতে বিরোধী দল যে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে তা চেহারা ছবিতেই পরিষ্কার। এই অবস্খায় নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে এদিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর উপস্থিতিতে সায়েন্স সিটিতে বৈঠকে বসেন বিজেপি নেতারা।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এদিনের বৈঠকে শুভেন্দু তাঁর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের কথাও উল্লেখ করেন। সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু। অনেকের মতে, শুভেন্দু সেই প্রসঙ্গ টেনে হয়তো এও বোঝাতে চেয়েছেন যে দিল্লির আস্থা তাঁর উপরে রয়েছে। এবং দিল্লিও জানে ভরাডুবির কারণ কী। ব্যর্থতা কার।