বিরোধী দলনেতা জানান, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসডিও, এসডিএম বা আরডিও পদমর্যাদার আধিকারিকরাই ইআরও হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 10 October 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী পদে নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক। রাজ্যের একাধিক জেলায় নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (Electoral Registration Officer বা ERO) পদে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার এক্স-এ পোস্ট করে শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের বহু জেলাশাসক জুনিয়র অফিসারদের ইআরও পদে নিয়োগ করেছেন, যা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে সিনিয়র WBCS (Executive) আধিকারিকদের এড়িয়ে জুনিয়রদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ইলেকশন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী।”
I urge the Election Commission of India (ECI) to take immediate action to address the numerous anomalies in the appointment of Electoral Registration Officers (EROs) across West Bengal. It has come to my attention that many District Magistrates have appointed junior Officers as… pic.twitter.com/fyJDgRRwYr
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) October 10, 2025
শুভেন্দুর অভিযোগ, মোট ২২৬টি নিয়োগ হয়েছে কমিশনের নির্ধারিত মানদণ্ড উপেক্ষা করে। তিনি বলেন, “এই ধরনের অনিয়ম আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সততা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে।”
বিরোধী দলনেতা জানান, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসডিও, এসডিএম বা আরডিও পদমর্যাদার আধিকারিকরাই ইআরও হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
টুইটে শুভেন্দু লেখেন, “আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি, পশ্চিমবঙ্গে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক। যেন দ্রুত সংশোধন ও পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা যায়।” তিনি আরও জানান, তিনি কয়েকজন ইআরও-র নাম ও বিবরণ (যাঁরা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন না) নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন উদাহরণ হিসেবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বিএলও-দের বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছে, বাংলায় এসআইআর হলে একজনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। পাশাপাশি কোনও অবৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না। এক্ষেত্রে কোনও ভুল হলে তার দায় বর্তাবে বিএলও-দের ওপর।
আবার, বাগদার বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগদান করে এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকও সুর চড়া করেছে। বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে এলাকার বিজেপি নেতাদের আটকে রাখার নিদান দিইয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় আগুন জ্বলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন পার্থ।
বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার প্রায় সাড়ে চারশো বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-দের নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।সূত্রের খবর, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, একজন বৈধ ভোটারের নাম যেমন তালিকা থেকে বাদ যাবে না, তেমনই কোনও অবৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে কোনও ভুল হলে তার দায় বর্তাবে BLO-দের ওপরেই।