
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 15 November 2024 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাব দুর্নীতির মাঝেই লটারি কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য। ইতিমধ্যে কলকাতায় এই সংক্রান্ত অভিযানে বিপুল টাকা উদ্ধার হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের একাধিক রাজ্যে হয়েছে তল্লাশি অভিযান। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাংলায় টাকা উদ্ধারের ঘটনায় শাসক দল তৃণমূলকেই নিশানা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এগুলি 'ভাইপো লটারি'।
লটারির টিকিট বিক্রি করেও সেই টিকিট নম্বরে লটারি না করিয়ে সম্পূর্ণ অন্য সিরিয়াল নম্বরের টিকিটের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের টাকা পাইয়ে দেওয়া-সহ অজস্র আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে ইডি। দাবি করা হচ্ছে এই দুর্নীতির অঙ্ক অন্তত ৬০ হাজার কোটি! এই বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, ''এসব ডিয়ার, মার্টিন এগুলো ভাইপো লটারি। ভোটের আগে নির্বাচনী বন্ডে তৃণমূলের কাছে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা এসেছে লটারির থেকে।''
শুভেন্দু এও দাবি করেছেন, গত দু-আড়াই বছর ধরে লটারি ইস্যুতে মুখ খুলে আসছেন তিনি। তৃণমূলকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কর দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লটারির টিকিট কাটলে তা শুধু তৃণমূলের লোকেদেরই লাগে, সাধারণ মানুষের লাগে না। এইভাবেই লটারি জিতেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, তাঁর মেয়ে। বিজেপি নেতার সাফ বক্তব্য, দক্ষিণ ভারতের ডিএমকে এবং বাংলার তৃণমূলের ব্যবসা এটা।
বস্তুত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালে যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে ফিউচার গেমিং নামে একটি গোষ্ঠীকে নির্বাচনী বন্ডে সব থেকে বেশি চাঁদা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে। আদতে কেরলের কোচি শহরের বাসিন্দা সান্তিয়াগো মার্টিন নামে এক পেপার লটারি ব্যবসায়ীর সংস্থা ওই ফিউচার গেমিং। এই রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে মার্টিন ও তার ঘনিষ্ঠদের প্রায় ২০ টি ঠিকানায় গতকাল ও আজ তেড়েফুঁড়ে অভিযানে নামে ইডি।
ধৃত লটারি কিং-কে জেরা করে কলকাতার লেক মার্কেটে লটারির অফিসে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেখানকার প্রিন্স গোলাম মহম্মদ রোডের একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। নিয়ে আসা হয় টাকা গোনার মেশিনও। এখনও অবধি কালো টাকার মোট অঙ্ক ৮ কোটি ৮০ লক্ষ।