
শেষ আপডেট: 5 February 2024 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত মাস আগে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় একজনকে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিল বিজেপি। সেই আসনে কোচবিহারের কামতাপুরী নেতা অনন্ত মহারাজকে প্রার্থী করেছিলেন অমিত শাহরা। তার আগে বাংলায় বিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে যাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না।
ফের বাংলা থেকে রাজ্যসভায় একটি আসন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বিজেপির। ওমনি দলের মধ্যেই দৌত্য শুরু হয়ে গেছে। এতদিন ধরে যাঁরা বাংলায় বিজেপি করছেন, তাঁদের অনেকে দাবিদার। যা খুবই স্বাভাবিক দাবি। আবার দলের মধ্যে রেষারেষি ঠেকাতে অরাজনৈতিক মুখ খোঁজার চেষ্টায় রয়েছেন উপরতলার কেউ কেউ। সূত্রের খবর, এই সব সাত-সতেরো মিলিয়ে বাংলা থেকে মোট ৮জনের নাম গেছে দিল্লিতে। এঁদের মধ্যে থেকে একজনকে প্রার্থী করা হবে।
দলের একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কোনও নতুন মুখকে প্রার্থী করতে আগ্রহী। এমন কেউ যিনি, অনন্ত মহারাজের মতই স্থানীয় সমীকরণে অনুঘটকের কাজ করতে পারেন। আবার শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য বিজেপির এক মহিলা নেত্রীর নাম প্রস্তাব করেছেন বলে খবর।
সন্দেহ নেই, শুভেন্দু ও সুকান্ত সুপারিশের ওজন বেশি হবে। কারণ, একজন বিরোধী দলনেতা অন্যজন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তবে সুকান্তর তুলনায় শুভেন্দুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। তৃণমূলে থাকাকালীন কংগ্রেস থেকে এক মহিলা নেত্রীকে এনে রাজ্যসভায় প্রার্থী করার জন্য মমতার কাছে সুপারিশ করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি মৌসম বেনজির নূর।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, শুভেন্দু কোন রাজ্য বিজেপি নেত্রীর নাম প্রস্তাব করেছেন? দলের মধ্যে কেউ কেউ তা অনুমান করার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে অনেকের মাথায় প্রথম আসছে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নাম। প্রিয়াঙ্কা রাজ্য বিজেপির সচিব। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তা ছাড়া ভবানীপুর বিধানসভার উপ নির্বাচনে তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছিল বিজেপি।
কেউ কেউ আবার ভারতী ঘোষ বা রপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা ভাবছেন। তবে ভারতীর লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে শোনা যাচ্ছে। আর রূপা ইতিমধ্যে একবার রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্য হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক বিবেচনা ও বোধ নিয়ে দলের মধ্যে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।
মহিলা প্রার্থীর সম্ভাবনার কথা শুনে কেউ কেউ দলীয় মুখপাত্র শতরূপার কথাও ভাবতে শুরু করেছেন। তবে শুভেন্দু বা সুকান্ত ঠিক কার কার নাম প্রস্তাব করেছেন, তার নাগাল দলের বেশিরভাগ নেতাই পাননি।
রাজ্য বিজেপির এক নেতা অবশ্য এদিন বলেন, রাজ্যসভার গত নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এবার প্রার্থী করা হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের কোনও মুখকে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে দলীয় প্রতিনিধিত্বে ভারসাম্য রাখার কারণে এটা ভাবা হয়েছে।