
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 21 March 2025 19:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "সব মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। তৃণমূলের মুসলিম নেতারা লুট করছে। সনাতন ধর্মের কাজে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশকে ব্যবহার করছে। এবং যা খুশি তাই করছে। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশ দেখার পর হিন্দুরা আর ঘুমিয়ে নেই।" তমলুকের (Tamluk) পর রামপুরহাটের (Rampurhat) বিক্ষোভসভা থেকে হুংকার শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই আর রেখে ঢেকে নয়, হিন্দু ভোট পেতে প্রকাশ্যে সরব হয়েছে বিজেপি (BJP)। সে হিন্দুত্বের পোস্টার সাঁটানো হোক বা জনসভায় ভাষণ।
বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে 'মোল্লাদের সরকার' বলে কটাক্ষ করেন, তখন থেকেই বোঝা গিয়েছিল, শুভেন্দুরা একেবারেই মুসলিম ভোটকে তোয়াক্কা করছে না।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই হিন্দু-মুসলিম ভোট ভাগাভাগি করেই নন্দীগ্রাম জয় হাসিল করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এমনটা মনে করেন। এবার সেই হিন্দুত্বের ইস্যু সামনে রেখেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি।
শুক্রবারের রামপুরহাটের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শুভেন্দু বলেন, "আজ হিন্দুরা তাকত দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতির পরে হিন্দুরা বুঝেছেন এ লড়াই টিকে থাকার লড়াই নয়, অস্তিত্ব থাকার লড়াই। '৫১-র জনগণনায় আমরা পশ্চিমবঙ্গে ৮৫ শতাংশ ছিলাম। আজকে ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছি। যেদিন ৫০ শতাংশের কমে নেমে যাবেন সেদিন সংবিধান চলবে না। কী চলবে? তা আপনারা জানেন।"
বিরোধী দলনেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, "আমাকে বর্ধমানে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পারেনি। মমতার রেজিস্টার্ড গুন্ডা দিয়েও পারেনি। যদি ভেবে থাকেন আমাদের হাতে গুন্ডা আছে, তাহলে ভুল ভাববেন। ১০ হাজার মানুষ সাঁইথিয়াতে একসঙ্গে হাঁটব। এরপরে নানুরেও যাব। যার যা সাহায্য লাগে আমরা করব।"
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি হিন্দু-আবেগ উস্কে দিতেই জায়গায় জায়গায় এহেন সভা করছেন বলে মত পর্যবেক্ষকদের। যদিও চুপ করে নেই শাসকদলও। পাল্টা হিসাবে তৃণমূলও বাঙালি-আবেগ কাজে লাগিয়ে ভোটের ঘুঁটি সাজাতে চাইছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। না হলে শহর তথা রাজ্য জুড়ে 'হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই' স্লোগানের উত্তরে রাতারাতি পোস্টার পড়ে?