
শেষ আপডেট: 7 April 2024 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআইএ-র এসপি ধনরাম সিং-এর বাড়িতে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি বৈঠক করেছেন। বিজেপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই ভূপতিনগরে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি। কুণাল ঘোষের সেই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূলকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, "ফুটেজ থাকলে প্রকাশ করুন।" শুধু তাই নয়, সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ''সন্দেশখালির ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।"
সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো জিতেন্দ্রর সঙ্গে এনআইএ-র গোপন বৈঠকের ভিডিও প্রকাশের হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পাল্টা মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এরপর তৃণমূলকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ''এনআইএ-র এসপির সঙ্গে জিতেন্দ্রর ভিডিও থাকলে প্রকাশ করুন।'
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, গত ২৬ মার্চ এনআইএ-এর এসপি ধনরাম সিংহের বাড়িতে বৈঠক করেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আর সেখানেই বাংলার কোন তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে এনআইএ হানা দেবে তার তালিকা দেওয়া হয় বলে দাবি তৃণমূলের। শুধু তাই নয়, একটি সাদা প্যাকেট মুড়ে এনআইয়ের ওই অফিসারকে বিজেপি নেতা টাকা দেন বলেও অভিযোগ তৃণমূলের মুখপাত্রের। এনআইএ-র এসপির বাড়ির রেজিস্টার বুকসে জিতেন্দ্রর সই আছে বলেও দাবি করেন কুণাল। এপ্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ''রেজিস্টারে জিতেন্দ্র তিওয়ারির সই বানানো হতে পারে। তৃণমূলের ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করবেন না। প্ররোচনায় পা দেবেন না।'
শনিবার ভূপতিনগরে এনআইএ-র উপর হামলার নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বালুরঘাটের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের উপরে হামলার ঘটনায় বড় প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, "মাঝরাতে কেন গিয়েছিল এনআইএ? স্থানীয় পুলিশকে জানিয়ে তো যায়নি। মাঝরাতে গ্রামের মানুষ অচেনা কাউকে দেখলে তো এমনই ঘটে!" তিনি এও বলেন, "ভূপতিনগরে মহিলারা হামলা করেননি, হামলা চালিয়েছে এনআইএ।" আর এনআইএ-র অভিযান নিয়ে মমতার বক্তব্যকে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত হয়ে গুন্ডাদের সমর্থন করছেন। পুলিশ মন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে আক্রমণ করছে, এটা নিন্দনীয়।"
এনআইএ সূত্রের দাবি, ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে শনিবার ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে দু'জন অভিযুক্তকে আটক করে গাড়িতে তোলার পরই গ্রামবাসীদের একাংশ হামলা চালায়। গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় দুজন আধিকারিক জখম হয়েছেন। ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডে সম্প্রতি আটজনকে এনআইএ-র কলকাতার দফতরে হাজির দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তরা হাজিরা না দেওয়ায় শনিবার ভোরে গ্রামে পৌঁছন তদন্তকারীরা।অভিযোগ, গ্রামের মহিলারা তদন্তকারীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। দু'জন আধিকারিক জখমও হন।