
শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 17 February 2025 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছরে চার বার বিধানসভায় সাসপেন্ড হলেন বিরোধী দলনেতা। যা নিয়ে পরে বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর কথায়, "গণতন্ত্রে বিরোধীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সরকার সেই সব রীতি নীতি মানে না। তাই বিধানসভার ভিতরে আমাদের মুখ বন্ধ করাতে এর আগে আমাকে তিন দফায় আট মাস এবং আজ থেকে আবার এক মাস সাসপেন্ড করল।"
এরপরই বিরোধী দলনেতার পাল্টা দাওয়াই, "এখন থেকে বিজেপি বিধায়করাও মুখ্যমন্ত্রীকে বয়কট করবেন। উনি যেদিন যেদিন বিধানসভায় আসবেন ওঁনাকে গেটে দাঁড়িয়ে আমাদের বিধায়করা ধিক্কার জানাবেন এবং ওঁর উপস্থিতি আমরা বয়কট করব।"
গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিধানসভায় শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপালের বক্তৃতার ওপর আগামীকাল বিধানসভায় বক্তব্য রাখার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার।
শুভেন্দু বলেন, "আমাকে যাতে বলতে না দেওয়া হয় এবং উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা দিতে পারেন, সেজন্যই পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে আমাকে-সহ চার বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হল।"
একই সঙ্গে শুভেন্দু জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার বিধানসভা কক্ষে যখন মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন ঠিক সেই সময় বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভ থেকে তিনি বক্তৃতা দেবেন। আগামীকাল দলের তরফে নির্দিষ্ট সময়ের আগে মানুষের কাছে ওই ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক পৌঁছে দেওয়া হবে।
এবারে সরস্বতী পুজোয় কিছু স্কুল, কলেজকে পুজো করার জন্য হুমকি, শাসানির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা গড়িয়েছিল হাইকোর্টেও। আদালতের নির্দেশে পুলিশি ঘেরাটোপে কয়েকটি স্কুলে পুজো হয়। এ নিয়েই এদিন বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চান বিজেপি বিধায়করা। অভিযোগ, স্পিকার তা একতরফা ভাবে খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে বিধানসভা সূত্রের খবর, শুধু ওয়ালে নেমে বিক্ষোভ দেখানো নয়, স্পিকারকে উদ্দেশ্যে করে কাগজও ছুড়েছেন বিরোধী দলনেতা। যে কারণে এদিন থেকে শুভেন্দু-সহ চার বিজেপি বিধায়ককে ৩০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। পাল্টা হিসেবে শুভেন্দু বলেন, "আমি না হয় ওয়ালে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম। কিন্তু অগ্নিমিত্রা পল, বঙ্কিম ঘোষরা চেয়ার থেকে ওঠেননি। তাছাড়া বিশ্বনাথ কারক এদিন বিধানসভাতেই উপস্থিত নেই। তাঁকেও এরা সাসপেন্ড করল। এর থেকেই তো স্পষ্ট সবটা পরিকল্পিত।"
শুভেন্দু এও বলেন, "বিধানসভায় তৃণমূল একাই তো ২০০-র বেশি আসনে রয়েছে। আমরা সেখানে ৬০-৬৫। সংখ্যায় অনেক কম। আমাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ওরা অনায়াসে যেকোনও বিল পাশ করে নিতে পারে। তবু আমাদের কে এত ভয় পাওয়ার কারণ কী? তা না হলে এভাবে মাসের পর মাস আমাকে বিধানসভার বাইরে রাখবে কেন?"
বিধানসভা সূত্রের অবশ্য দাবি, স্পিকারের সঙ্গে অভব্যতার অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে বিরোধী দলনেতা-সহ চার বিধায়ককে ১ মাস সাসপেন্ড করা হয়েছে।