
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 5 August 2024 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ভাগের দাবির বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনে সোমবার বিধানসভায় বিতর্কের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। সেই তর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে অংশ নেবেন তা আগেই থেকেই স্পষ্ট ছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে এভাবে কৌশলগত পদক্ষেপের আগে সোমবার বিধানসভায় বিরল ছবি দেখা গেল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাব মেনে নিল সরকার। যার অর্থ সরকারের আনা প্রস্তাবে সংশোধন করা হবে।
কী ঘটেছে এদিন?
সোমবার বিতর্ক শুরু হওয়ার আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনাদের আজকের প্রস্তাব পুরোপুরি রাজনৈতিক। এটা পার্টির লিফলেট হয়ে গেছে। বিজেপির একজন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (সুকান্ত মজুমদার) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন যা আদৌ বাংলা ভাগের কথা নয়। তিনি বাংলা ভাগের কথা বলেননি। তিনি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন”।
শুভেন্দু আরও বলেন, “আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পরিষদীয় মন্ত্রী যখন উত্তর দেবেন তখন বর্তমান প্রস্তাবের বয়ানের কিছুটা পরিবর্তন করুন। আমার প্রস্তাব অখন্ড পশ্চিমবঙ্গ, অবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে প্রস্তাব আনুন। আমরা সহমত পোষণ করব”।
শুভেন্দুর এ কথা শুনে বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আপনারা কোনও সংশোধন প্রস্তাব জমা দেননি। তা জমা দিলে অবশ্যই বিচার করা হত।
কিন্তু দেখা যায়, এর পরই পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উঠে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশে গিয়ে বসেন। সাধারণত বিরোধীরা কোনও সংশোধন প্রস্তাব আনলে সরকার তা গ্রহণ করে না। তবে সরকার সেই সংশোধন প্রস্তাব নিজেরাই এনে পুরনো প্রস্তাবে পরিবর্তন করে নেন। এক্ষেত্রেও তেমনই ঘটে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেবের উদ্দেশে বলেন, “শুভেন্দু যেটা বলছে যুক্ত করে নিন”।
অর্থাৎ সাড়ে তিন বছর এই প্রথম প্রকাশ্যে শুভেন্দুর নাম মুখে আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভেন্দু তৃণমূল ছাড়ার পর বিধানসভায় তো বটেই প্রকাশ্য সভাতে তাঁর নাম কখনও মুখে আনেননি। মেদিনীপুরে দলীয় সভায় গেলে তাঁর নাম না করে বলেছেন, গদ্দার। সেই তুলনায় সোমবারের ঘটনা বিরল।
এদিনের বিরল ঐক্যমতটাই সকলের নজর কেড়েছে। ২০২১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় লাগাতার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ধুন্ধুমার চলছে। এদিনের ঘটনা তুলনায় যেন মরুদ্যান। ক্ষণস্থায়ী হলেও বিরল।