দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরীক্ষা কেন্দ্রেই থাকবে আইসোলেশন রুম। সেখান থেকে পরীক্ষা দেবেন কোভিড পজিটিভ পরীক্ষার্থী। সোমবার আইনের এন্ট্রান্স পরীক্ষার এক পরীক্ষার্থীকে এমনই অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন দেশ জুড়ে কমন ল অ্যাডমিশান টেস্ট পরীক্ষা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের এক কোভিড পজিটিভ তরুণ পরীক্ষায় বসার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
আইনের এন্ট্রান্স পরীক্ষার অর্গানাইজাররা সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে আইসোলেশন সেন্টার। অর্গানাইজারদের কথা শুনে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, কোভিড পজিটিভ পরীক্ষার্থী আইসোলেশন রুম থেকে পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকবেন সকলের শেষে। বেরোবেন সকলের আগে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সুপারিনটেনডেন্টকে বলা হয়েছে, তিনি যেন কোনও সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীকে সেখানে মোতায়েন করে রাখেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি এবং বিচারপতি শাহ বলেন, তাঁরা কেবল আবেদনকারী পরীক্ষার্থীকেই আইসোলেশন সেন্টার থেকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। ওই নির্দেশ আর কোনও পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এদিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। ২০ জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন, কোভিড অতিমহামারীর পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্তে বন্যাও দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা আরও দুই থেকে তিন মাস পিছিয়ে দেওয়া হোক।
আবেদনকারীরা বলেছিলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সঙ্গে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার অনেক পার্থক্য রয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে অ্যাকাডেমিক ইয়ার নষ্ট হয়। কিন্তু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা নেওয়া হয় চাকরিতে নিয়োগ করার জন্য। ওই পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে বছর নষ্ট হওয়ার প্রশ্ন নেই।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল, এইসময় পরীক্ষা নেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বিপদে পড়বেন। তাঁদের অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। কেউ কেউ মারাও যেতে পারেন।
কিন্তু ইউপিএসসি সুপ্রিম কোর্টে বলেছে, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা হবে আগামী ৪ অক্টোবর। করোনা সংকটের জন্য তা স্থগিত রাখার প্রশ্নই ওঠে না। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার এসম্পর্কে এফিডেবিট পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ইউপিএসসি-কে। ওই আবেদনের ওপরে ফের শুনানি হবে আগামী ২৩ অক্টোবর।
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ হাজারেরও বেশি মানুষের। তবে এর পাশাপাশি সুস্থও হয়েছে ৫০ লক্ষের বেশি। যদিও ভারতে এখনও অ্যাকটিভ কেস সাড়ে ৯ লক্ষের বেশি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুসারে সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৬০,৭৪,৭০২। কোভিড সংক্রমণে এ যাবৎ দেশে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৫,৫৪২ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫০,১৬,৫২০ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৯,৬২,৬৪০।