
শেষ আপডেট: 2 July 2023 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান থাকলে নাকি প্রেমিক গ্রহণ করবে না তাকে। তাই নিজের হাতে আড়াই বছরের ছেলেকে খুন করে পুলিশের কাছে গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি লিখিয়ে এল মা (mother killed child)। শুধু তাই নয়, সন্তানের দেহ লোপাট করার পরেও কীভাবে ধরা পড়বে না, তা শেখার জন্য ছেলেকে খুন করার পর অজয় দেবগন অভিনীত দৃশ্যম সিনেমা দেখল বসে বসে।
হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের সুরাতের ডিন্ডোলি এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলা একটি নির্মীয়মান ভবন তৈরীর কাজে যুক্ত ছিল। একদিন ওই মহিলা পুলিশের কাছে গিয়ে জানায়, তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত নামে পুলিশ। ওই নির্মীয়মান ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায়, শিশুটি মায়ের সঙ্গেই সেখানে এসেছিল। কিন্তু সেখান থেকে আদৌ বেরোয়নি সে। প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে এলাকাজুড়ে ছানবিন করার পরেও কোনওভাবেই শিশুটির সন্ধান মেলেনি।
এর পরেই ধন্ধে পড়ে যায় পুলিশ। তাহলে শিশুটি গেল কোথায়? সে ব্যাপারে ফের তদন্ত শুরু হতেই মহিলা ফের অভিযোগ করে, তার প্রেমিক, যে কিনা ঝাড়খণ্ডে থাকে, সেই অপহরণ করেছে তার ছেলেকে। এরপর মহিলার প্রেমিকের মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন দেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু তাতে জানা যায়, যে সময় শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল বলে দাবি করে তার মা, তখন ওই ব্যক্তি আদৌ গুজরাতে ছিলেনই না।
এরপরেই ক্রমশ মহিলার উপরেই সন্দেহ তীব্র হতে শুরু করে পুলিশের। ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একসময় ভেঙে পড়ে মহিলা স্বীকার করে, নিজের হাতেই সন্তানকে খুন করেছে সে। আরও জানায়, সে নিজে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। যদিও কর্মসূত্র থাকে সুরাতে। ঝাড়খণ্ডেরই এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে তার। কিন্তু প্রেমিক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ছেলে সমেত প্রেমিকাকে কিছুতেই ঘরে তুলবে না সে।
এরপরেই ছেলেকে খুন করা সিদ্ধান্ত নেয় ওই মহিলা। ওই নির্মীয়মান ভবনে নিজের ছেলেকে স্বহস্তে খুন করে সে। কিন্তু শিশুটির দেহ লোপাটের ব্যাপারে ফের পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে মহিলা। প্রথমিকভাবে সে জানায়, একটি গর্ত খুঁড়ে ছেলের দেহ পুঁতে রেখেছে সে। কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির দেহ পাওয়া যায়নি। এরপর মহিলা ফের জানায়, একটি পুকুরে সন্তানের দেহ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে সে। কিন্তু সেখান থেকেও দেহ মেলেনি। শেষমেশ জেরার মুখে ভেঙে পড়ে মহিলা জানায়, নির্মীয়মান ভবনের বাথরুম তৈরির জন্য একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সেখানেই ছেলের দেহ ফেলে দিয়েছে সে। সেখানে তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে শিশুটির দেহ পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা গেছে, মহিলা ছেলেকে খুন করার পর দৃশ্যম সিনেমাটি দেখেছিল। ওই সিনেমায় দেখানো হয়েছিল, কীভাবে খুনের পরেও শুধুমাত্র প্রমাণ লোপাটের কারণে অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে মামলা, ধরা পড়ছে না খুনি। সেই দেখেই অভিযুক্ত মহিলার ধারণা হয়েছিল, একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে তাকেও কেউ ধরতে পারবে না।
মহিলাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
মাতৃভাষাই হাতিয়ার, বাংলার পঞ্চায়েত ভোটে ওড়িয়ায় দেওয়াল লিখছে তৃণমূল!