
শেষ আপডেট: 10 November 2023 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপালেরা। শুক্রবার শীর্ষ আদালত দুই রাজ্যপালকে বলেছে, ‘আপনারা আগুন নিয়ে খেলছেন। এই ভাবে সাংবিধানিক কর্তব্য লঙ্ঘন করতে পারেন না। রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিনের পর দিন ফেলে রাখতে পারেন না।’ শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, ‘রাজ্যপাল- রাজ্য সরকার বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ানোও অনাকাঙ্খিত। দুই পক্ষ বসে কেন সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না!’
পাঞ্জাবে বিল আটকে রাখার সঙ্গে অতিরিক্ত বিষয় হল বাজেট অধিবেশন নিয়ে রাজ্যপালের আপত্তি। এ বছর জুনে রাজ্য সরকারের নির্ধারিত সময়ের বিধানসভার বাজেট অধিবেশন ডাকতে অস্বীকার করেন রাজ্যপাল বানোয়ারিলাল পুরোহিত। রাজ্য সরকার রাজ্যপালের অনুমোদন ছাড়াই অধিবেশন চালু করে। এই প্রথম রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়া কোনও রাজ্যে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এর পাশাপাশি রাজ্যপাল সাতটি বিল আটকে রেখেছেন যেগুলি বিধানসভায় পাশ হয়েছে।
অন্যদিকে, তামিলনা়ড়ুর রাজ্যপাল এন রবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আটকে রেখেছেন প্রায় এক ডজন বিল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে রাজ্যের ডিএমকে সরকার। কেরলে একই অভিযোগ উঠেছে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের বিরুদ্ধে। তিন রাজ্য সরকারই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে।
প্রসঙ্গত, একই সমস্যা থাকলেও বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মামলা করেনি। সরকারি সূত্রের খবর, তৃণমূল সরকারের বিগত ১২ বছরে পাশ হওয়া ২২টি বিল রাজভবনে আটকে আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ব্যাপারে বারে বারে সরব হয়েছেন।
রাজভবন সূত্রের খবর, হালে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছেন। রাজভবন দ্রুত বিলগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে, এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে নবান্নকে। রাজ্যপাল বোস এ জন্য রাজভবনের কয়েকজন সিনিয়র অভিজ্ঞ অফিসারকে নিয়ে একটি সেল তৈরি করেছেন। ওই সেল রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে।
রাজভবন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ২২টি বিলের মধ্যে ১২টি সম্পর্কে রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যায় আগের রাজ্যপাল সন্তুষ্ট ছিলেন না। আটকে থাকা বিলের মধ্যে গণহত্যা প্রতিরোধ আইনটিও আছে। বছর পাঁচেক আগে পাশ হওয়া ওই বিলটির ব্যাপারে আগের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে নালিশ করেছিল কংগ্রেস ও সিপিএম। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজ্যপাল যে আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিলেন সেটি বিধানসভায় পাশ হয়নি। অন্য একটি খসড়া পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত সাতটি বিল আটকে আছে রাজভবনে।
শীর্ষ আদালতে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চে পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষ হয়। শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্ট দুই রাজ্যপালকে বলেছে, বিল নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে। পাঞ্জাবের রাজ্যপালকে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়া রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন বৈধ। কারণ, বাজেট অধিবেশনের সাংবিধানিক গুরুত্বের কথা রাজ্যপাল বিবেচনায় রাখেননি।
গত সপ্তাহেই পাঞ্জাবের মামলা নিয়ে রাজ্যপাল পুরোহিতের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, আপনারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, মনোনীত। আপনাদের প্রশাসনিক অধিকার সীমিত। দুর্ভাগ্যের হল আপনারা সে কথা বিবেচনায় রাখছেন না। প্রসঙ্গত, এর আগে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল তামিলিসাই সুন্দররাজনকেও একই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।