দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ডিসেম্বর মাসে রাফায়েল বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট ক্লিনচিট দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। তার পরে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত হয়, রাফায়েল চুক্তির সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর অফিস যেভাবে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে, তা কাঙ্ক্ষিত নয়। সুপ্রিম কোর্টে তখন বিরোধীরা ফের আবেদন জানান, ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচারপতিরা আর একবার খতিয়ে দেখুন, কেন্দ্রকে ক্লিনচিট দেওয়া যায় কিনা। কেন্দ্রীয় সরকার প্রবল আপত্তি জানিয়ে বলে, সেক্ষেত্রে গোপন নথিপত্র আদালতে পেশ করতে হবে। কিন্তু বিচারপতিদের বেঞ্চ বুধবার সেই আপত্তি উড়িয়ে ফের রাফায়েল নিয়ে বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেল মোদী সরকার। সংবাদ মাধ্যমে রাফায়েল নথি প্রকাশিত হওয়ার পরে সরকার জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে সেগুলি চুরি গিয়েছিল। সংবাদপত্রে লেখা হয়েছিল, ওই নথিগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা কতদূর জানা যায়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট নথিগুলিকে প্রামাণ্য বলে গ্রহণ করছে।
কংগ্রেস ও অন্য বিরোধীদের অভিযোগ, রাফায়েল চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বন্ধু শিল্পপতি অনিল অম্বানিকে বেআইনিভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা পেয়েছেন। তাঁর কোম্পানিকে রাফায়েল নির্মাতা সংস্থা দাসোর অফসেট পার্টনার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল। সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন, তাঁদের অন্যতম এনডিএ-র প্রাক্তন মন্ত্রী অরুণ শৌরী। তিনি বলেন, যে নথিগুলি খতিয়ে দেখার কথা বলে হচ্ছে, সেগুলি সত্যিই দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই বিচারপতিরা ওই নথিগুলি খতিয়ে দেখবেন।
কেন্দ্রীয় সরকার এর আগে আদালতে বলেছিল, যারা ষড়যন্ত্র করে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির ফটো কপি করেছে, তারাই সেগুলি প্রকাশ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে।
আবেদনকারী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে বলেন, কোনও নথি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করে, তাহলে তা কোথা থেকে পাওয়া গেল, সেই প্রশ্ন অবান্তর। তিনি আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেদেশেও পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে আদালত রায় দিয়েছিল।
যে সংবাদমাধ্যমে রাফায়েল নিয়ে নথি প্রকাশিত হয়েছিল, তারা জানিয়ে দিয়েছে, কোথা থেকে তা পাওয়া গিয়েছিল, কিছুতেই জানানো হবে না।
সর্বোচ্চ আদালত এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি নাকচ করে জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী শুনানির দিন স্থির হবে শীঘ্র।