দ্য ওয়াল ব্যুরো : মুজফফরপুরে যে অনাথ আশ্রমে বালিকাদের ওপরে যৌন নির্যাতন চালানো হাত, তার মালিকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জু বর্মার স্বামী। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি পাওয়া গিয়েছিল। তার পরেও মঞ্জু বর্মাকে গ্রেফতার করতে পারেনি বিহার পুলিশ। সেজন্য সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কঠোর তিরস্কার করা হল বিহার পুলিশকে।
বিচারপতি বলেন, চমৎকার! একজন প্রাক্তন মন্ত্রী কিনা নিখোঁজ হয়ে আছেন! বিহার সরকারকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এক প্রাক্তন মন্ত্রী গা ঢাকা দিয়ে আছেন আর কেউ তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না?
বিচারপতি নির্দেশ দেন, ২৭ নভেম্বরের মধ্যে যদি মঞ্জু বর্মাকে না খুঁজে পাওয়া যায় তবে বিহার পুলিশের প্রধানকে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহি করতে হবে। একইসঙ্গে বিহার সরকারের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মুজফফরপুর বাদে রাজ্যের অন্যত্র যে হোমগুলিতে আশ্রিতাদের ওপরে নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন?
মুজফফরপুরের শেল্টার হোমে ৪০ জনের বেশি নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। গত এপ্রিলে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রককে এক রিপোর্টে একথা জানায়। ওই হোমটি যিনি চালাতেন, তার মালিক ছিলেন ব্রজেশ ঠাকুর।
সেই হোমের নাম বালিকা গৃহ । জুন মাসে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল অভিযোগকারিণীদের পরীক্ষা করে জানায়, সত্যিই তাদের ওপরে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে । এক তরুণীকে খুন করে ওই হোম চত্বরেই পুঁতে ফেলা হয়েছিল। এর পরে জানা যায়, ব্রজেশ ঠাকুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালিত অপর একটি শেল্টার হোম থেকে ১১ জন বালিকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মঞ্জু বর্মার স্বামী চন্দ্রশেখর বর্মা বেশ কয়েকবার ওই হোমে গিয়েছিলেন। তিনি ব্রজেশ শর্মার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ওই অভিযোগ ওঠার পরে মঞ্জু বর্মা মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
গত অগাস্টে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ৫০ টি তাজা কার্তুজ পায়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। গত ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট বিহার পুলিশকে তিরস্কার করে, কেন প্রাক্তন মন্ত্রীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তার পরে মঞ্জু বর্মার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার পরে বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও তিনি গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি।