
শেষ আপডেট: 12 December 2023 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের জট কেটেছিল হাইকোর্টের নির্দেশে। তারপরই স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু করে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এখনই কোনওভাবে কাউন্সেলিং বন্ধ করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশ মতোই ১৪ হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে কমিশনকে।
উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের জন্য ২০১৪ সালে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১৫ সালে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে কমিশন। ২০১৯ সালে মেধাতালিকা প্রকাশ করাও হয়েছিল। কিন্তু তারপর আর নিয়োগ হয়নি। নানাবিধ কারণে আটকে যায় উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ।
নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। ২০২০ সালে আদালত আগের মেধাতালিকা বাতিলের নির্দেশ দেয়। নতুন করে মেধাতালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ শুরু করতে বলেছিল হাইকোর্ট। গত ২৫ অগস্ট কমিশন যে মেধাতালিকা প্রকাশ করেছিল তাতে নাম ছিল ১৪ হাজার ৩৩৯ জনের। অনেকে ওয়েটিং লিস্টেও ছিলেন। তারপরই গত ১৭ অক্টোবর কাউন্সেলিং শুরু করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরুও করেছিল কমিশন। তবে তারপরই উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান। মঙ্গলবার বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আসাউদ্দিন আমানুল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান যে, তাঁর মক্কেলদের নাম কমিশনের প্রথম তালিকায় ছিল। কিন্তু পরে সেই তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশ করে। নতুন তালিকায় দেখা যায়, তাঁর মক্কেলদের নাম নেই। কেন তাঁদের বাদ দেওয়া হল তার কোনও সদুত্তর নেই। মামলা কারীদের বক্তব্য না শুনেই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এক তরফা রায় দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই তারা কাউন্সেলিং শুরু করেছে। কিন্তু হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত জানায় যে, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এখন যেহেতু মামলাকারীদের বক্তব্য শুনছে তাই উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর এখনই হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।তবে কাউন্সেলিংয়ের পর হাইকোর্ট নিয়োগ নিয়ে যে নির্দেশ দেবে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন মামলাকারীরা।