
শেষ আপডেট: 2 March 2023 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনার (Election Commissioner) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বৃহস্পতিবার মোড় ঘোরানো রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা ছেঁটে সর্বোচ্চ আদালত প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটির উপর ভার দিয়েছে ওই দুই পদে যোগ্য ব্যক্তিদের বেছে নেওয়ার।
এই রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি কেএম জোসেফের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ দেশের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, নির্বাচনকে অর্থ ও পেশি শক্তি গ্রাস করেছে। আদালতের প্রশ্ন, এই অনাচার দেখেও দেশের সংবাদমাধ্যম চুপ কেন? আদালতের মতে, মিডিয়া এই ব্যাপারে তাদের নৈতিক কর্তব্য ভুলে গিয়েছে। তারফলে নির্বাচন আরও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের সামনে ভোটে হিংসা এবং তা দমনে পুলিশ ও আধা সেনা মোতায়েনে বিপুল খরচের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ব্যবহারের বিষয়েও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শুনানিতে সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে পেড নিউজ বা টাকার বিনিময়ে দল ও প্রার্থীর হয়ে প্রচার করার অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে। মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই শীর্ষ আদালত রায়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে শীর্ষ আদালত বৃহস্পতিবার এই দুই পদে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি সংশোধন করার সুপারিশ করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্বাধীনতার পর দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় যত পরিবর্তন হয়েছে বৃহস্পতিবারের রায় তার মধ্যে মৌলিক। এতদিন সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতেন কাদের হাতে থাকবে নির্বাচন পরিচালনার ভার।
আদালত আজ বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারিদের নিয়োগের ব্যাপারে কোনও আইন শেষ কথা বলতে পারে না। চলতি আইনে এই ব্যাপারে নির্বাহী বিভাগ অর্থাৎ সরকারের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে, যা কাম্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলি আইনে পরিবর্তন চাইতেই পারে।
শীর্ষ আদালতের মতে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, স্বশাসিত, এই ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্যে স্বাধিকারের দৃষ্টান্ত থাকা দরকার। সরকারের বাছাই করা কোনও ব্যক্তি স্বাধিকার নিশ্চিত করতে পারেন না। তাই কমিশনার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি ছিল।
বিধায়ক খুনের সাক্ষী উমেশের দেহরক্ষীর মৃত্যু! ২ মাস পরেই সাত পাকে বাঁধা পড়তেন তিনি